কবি নজরুলের ‘ব্যথার দান’ নিয়ে পাঠচক্র

পাঠচক্র শেষে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভার বন্ধুরাছবি: বন্ধুসভা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা; যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত। তিনি একাধারে ছিলেন সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তাঁর রচনায় বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের শক্তিশালী প্রকাশ দেখা যেত। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল তীক্ষ্ণ অস্ত্র। তাঁর লেখায় যেমন বিদ্রোহ প্রকাশ পেত, তেমনি প্রেম ও মানবতার কোমল আবেগও স্পষ্ট ছিল।

কাজী নজরুল ইসলামের এমনই এক রচনার নাম ‘ব্যথার দান’। তিনি ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করেন তাঁর প্রথম এই গল্পগ্রন্থ। ২৭ আগস্ট গল্পগ্রন্থটি নিয়ে পাঠের আসর করেছে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা।

‘ব্যথার দান’ গল্পের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভালোবাসা, পাওয়া না–পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে নজরুল গল্পটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু মিলনে নয়, বিরহ, ত্যাগ, কষ্ট ও ক্ষমার মধ্য দিয়েও পূর্ণতা লাভ করে। গল্পটিতে ফুটে উঠেছে মানুষের বাস্তবতা। মানুষের জীবনের ব্যথা তাকে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি আরও মহৎ ও মানবিক করে তোলে। গল্পটিতে প্রেম–বিরহ, আত্মত্যাগ ও বেদনার মধ্য দিয়ে এই উপলব্ধি প্রকাশ পেয়েছে।

বন্ধু উদয় সরকার বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর এই গল্পে ঘঠনাপ্রবাহের চেয়ে চরিত্রগুলোর আবেগ, প্রেম বিরহ ও মানসিক দ্বন্দ্ব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রচলিত কাহিনি বা গঠনের তুলনায় আবেগের প্রাবল্য ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যকেই বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বন্ধু অনুপ দাস বলেন, ‘আমার কাছে ব্যথার দান শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; এটি ব্যথাকে কীভাবে ভালোবাসা, ক্ষমা ও আত্মমুক্তির শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সৈয়দা তামান্না ইসলাম, হৃদিতা ও অন্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা