জামালপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়’

জামালপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।

রউফুল আলম রচিত ‘একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়’ বই নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে জামালপুর বন্ধুসভা। ২৮ আগস্ট রাতে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুম অ্যাপে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রে বইটির বিভিন্ন অধ্যায়, বিষয়বস্তু, লেখকের চিন্তাধারা এবং বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা হয়। শুরুতে লেখক রউফুল আলমের লেখালেখি ও বইটির মূল ভাবনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন বন্ধুরা।

আলোচকেরা বইটিতে উঠে আসা একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উপাদান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন, নাগরিক দায়িত্ব ও তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচকেরা বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষা, দক্ষতা, সঠিক নীতি, দায়িত্বশীল নাগরিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বন্ধু নুসরাত শৈলী বলেন, ‘একটি দেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত বা অবকাঠামো দিয়ে তৈরি হয় না; দেশের প্রকৃত মেরুদণ্ড হলো তার শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। লেখক বইটিতে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন, কীভাবে সঠিক শিক্ষানীতি একটি জাতিকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য করে তোলে।’

বন্ধু কামরুল ইসলাম বইটিতে উল্লিখিত বিভিন্ন দেশের রূপান্তরের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘কোনো দেশ রাতারাতি বদলে যায় না। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, সঠিক নীতি নির্ধারণ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনই একটি রাষ্ট্রকে শূন্য থেকে শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে। লেখক অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বিশ্ব অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো সাধারণ পাঠকের সামনে সহজ করে ফুটিয়ে তুলেছেন।’

তরুণদের নাগরিক দায়িত্বের প্রসঙ্গে বন্ধু আদিল বলেন, ‘আমরা প্রায়ই দেশ গঠনে সরকারের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সচেতন ও দক্ষ নাগরিক ছাড়া কোনো দেশ সত্যিকার অর্থে দাঁড়াতে পারে না। আমাদের মতো তরুণদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গঠনমূলক চিন্তার মাধ্যমে দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা জরুরি।’

বন্ধু সাব্বির হোসেন বইটির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বলেন, ‘বইটি তরুণদের হতাশা দূর করে একধরনের আশার সঞ্চার করে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যারা দেখে, এই বইটি তাদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।’

সহসাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা