বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মননশীল করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে পাঠাগার স্থাপন করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ‘বন্ধু পাঠাগার’ শিরোনামে ২৯ অক্টোবর বিকেলে মাইজদী বার্লিংটন মোড়ে সোফিয়া মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ইয়ুথ ভলান্টিয়ার একাডেমিতে এই পাঠাগারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ইয়ুথ ভলান্টিয়ার একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের নামমাত্র খরচে পাঠদানের মাধ্যমে সমাজের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছে। সেই একাডেমির প্রাঙ্গণেই পাঠাগারটি স্থাপন করায় এখানকার শিক্ষার্থীরা সরাসরি বই পড়ার সুযোগ পাবে এবং বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এ ছাড়া শিশুদের মনন বিকাশের কথা চিন্তা করে পাঠাগারটিতে ছোটদের পড়ার উপযোগী আকর্ষণীয় গল্পের ও ছড়ার বইও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
‘বন্ধু পাঠাগার’ তরুণদের জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাঠাগারটিতে বন্ধুসভার পক্ষ থেকে দুই শতাধিক গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞানভিত্তিক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, ইতিহাসবিষয়ক, গোয়েন্দা সিরিজ এবং ছোটদের পড়ার মতো শিক্ষণীয় নানা ধরনের বই দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, ‘বই মানুষের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ শুধু জ্ঞান অর্জন করে না, নিজের চিন্তা, বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধকেও সমৃদ্ধ করে। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করতে ও মাদক-মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের পাঠাগার সমাজে আলো ছড়াবে।’
নোয়াখালী বন্ধুসভার উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘পাঠাগার কেবল বই সাজিয়ে রাখার জায়গা নয়; এটি মূলত জ্ঞান, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতা চর্চার এক উন্মুক্ত কেন্দ্র। আমরা চাই, “বন্ধু পাঠাগার” তরুণদের নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহিত করবে এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাবে।’
নোয়াখালী বন্ধুসভার সভাপতি আসিফ আহমেদ বলেন, ‘বন্ধুসভার অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো ইতিবাচক সমাজ গঠনে কাজ করা এবং সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে তরুণদের পাশে দাঁড়ানো। “বন্ধু পাঠাগার” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা নোয়াখালীতে বই পড়ার একটি টেকসই ও সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা, এই পাঠাগারকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস আরও বিস্তৃত হবে।’
পাঠাগারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ বলেন, ‘বন্ধু পাঠাগার’কে প্রাণবন্ত রাখতে প্রতি মাসে পাঠাগার প্রাঙ্গণে নিয়মিত পাঠচক্র ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হবে। পাঠাগারের সদস্যদের বই পড়ার আগ্রহ ধরে রাখতে প্রতি মাসে ‘সেরা পাঠক নির্বাচন’ করা, এবং পাঠকদের বইভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া বই ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করে তরুণদের জন্য আরও নানান সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের, যেন তারা নিয়মিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সুযোগ পায়।
ইয়ুথ ভলান্টিয়ার একাডেমির পরিচালক দুর্জয় ভৌমিক বলেন, ‘সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আমাদের এই চলমান প্রচেষ্টায় বন্ধুসভার মতো একটি সক্রিয় ও ইতিবাচক সংগঠনকে সঙ্গে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইয়ুথ ভলান্টিয়ার একাডেমির শিক্ষা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমন একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার স্থাপন করায় নোয়াখালী বন্ধুসভাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বন্ধুসভার সহসাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত শিহাব, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ, বন্ধু সাকিব, সাইফুল শিহাব এবং ইয়ুথ ভলান্টিয়ার একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেকে।
সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা