মানবিক সম্পর্কের ব্যর্থতা নিয়ে অর্থবহ সামাজিক উপন্যাস ‘যোগাযোগ’

শাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে সমাজের পুরোনো জমিদার শ্রেণি ও নব্য ধনী ব্যবসায়ী শ্রেণির মানসিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত তুলে ধরেছেন। ২৩ জানুয়ারি বিকেলে বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার ভবনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মাইশা আক্তারের সঞ্চালনায় বইটি নিয়ে আলোচনা করেন উপস্থিত বন্ধুরা। বন্ধু ইয়ারমিন আক্তার বলেন, ‘কুমুদিনী একজন আত্মমর্যাদাশীল ও সংবেদনশীল নারী, যার বিবাহ হয় অর্থলোভী ও কর্তৃত্বপরায়ণ মধুসূদনের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়িতে কুমুদিনী মানবিক সম্মান ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়ে গভীর মানসিক যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও হৃদয়ের যোগাযোগ গড়ে ওঠে না, বরং ক্ষমতা ও অর্থের প্রাধান্য সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে।’

বন্ধু ইয়াসির সান বলেন, ‘মধুসূদনের আচরণ কুমুদিনীর আত্মসম্মানকে আঘাত করে এবং দাম্পত্যজীবনকে নিষ্ঠুর করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে কুমুদিনী নিজের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সংসার ত্যাগের কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই সিদ্ধান্ত নারীর আত্মসচেতনতা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ।’

বন্ধু সাবিনা আক্তার বলেন, ‘উপন্যাসে অর্থবিত্তের দম্ভ ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে। মানুষের মধ্যে প্রকৃত হৃদ্যতা ও বোঝাপড়ার অভাব কীভাবে সম্পর্ক ভেঙে দেয়, তা লেখক গভীরভাবে দেখিয়েছেন। তাই “যোগাযোগ” মানবিক সম্পর্কের ব্যর্থতা ও সত্যিকারের যোগাযোগের সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক অর্থবহ সামাজিক উপন্যাস।’

পাঠচক্রের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু মোস্তাকিম বিল্লাহ, তৌহিদুল ইসলাম, জনি জান্নাতসহ অন্য বন্ধুরা।

প্রচার সম্পাদক, শাবিপ্রবি বন্ধুসভা