শাকিবের (১১) বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন তার বাবা মো. বিল্লাল ও মা সেলিনা আক্তারের ছাড়াছাড়ি হয়। সন্তানকে নিয়ে মা সেলিনা আক্তার আশ্রয় নেন আমলাহার আশ্রয়ণ প্রকল্পে। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে ছেলেকে লালন–পালন করছেন তিনি। পড়াশোনা করাচ্ছেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়। প্রায় দুই মাস আগে শাকিব গুরুতর অসুস্থ্ হয়ে পড়লে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে করান চিকিৎসা। হাতে টাকাপয়সা না থাকায় এবারের ঈদে ছেলেকে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারেননি। ১৫ মার্চ পঞ্চগড় বন্ধুসভার বন্ধুরা শাকিবের হাতে তুলে দিয়েছেন ঈদের নতুন জামা।
এ সময় শাকিবের চোখেমুখে দেখা গেল খুশির ঝিলিক। নতুন জামা হাতে নিয়ে শিশুটি বলে, ‘মা এইবার জামা কিনে দেয়নি। টাকা নাই। তুমুরা দিলেন খুপে ভালো হইল।’
শুধু শিশু শাকিবই নয়, এদিন পঞ্চগড় বন্ধুসভার উদ্যোগে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের আমলাহার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার ৫০টি শিশুকে নতুন জামা উপহার দেওয়া হয়েছে। এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা ওই এলাকায় গিয়ে এই শিশুদের তালিকা তৈরি করেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী নিপা আক্তারের (১৪) হাতে নতুন জামা তুলে দেওয়া হলে তার মা তনজিনা বেগম বলেন, ‘মোর বেটিডার (মেয়ের) তানে (জন্য) জামা আনে খুপে উপকার করলেন বাপু। হামার টাকা পাইসা নাই যে, ঈদোত নয়া জামা কিনে দিমো।’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ঈদে নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারেননি স্কুলপড়ুয়া মেয়ে আয়েশা আক্তারকে (১২)। বন্ধুসভার নতুন জামা পেয়ে হাসি ফুটেছে আয়েশার মুখে। মুচকি হেসে সে বলে, ‘জামাডা সুন্দর হইচে। ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা পায় উপকার হইল।’
শিশুদের হাতে জামা তুলে দেওয়ার সময় আমলাহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের সহসভাপতি হাফিজুল ইসলাম, প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা রাজিউর রহমান, স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা খাদিজা আক্তার, পঞ্চগড় বন্ধুসভার সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক রেশমা রিয়াসহ বন্ধুসভার অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্ধুসভার সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধুসভার পক্ষ থেকে সহমর্মিতার ঈদের আয়োজন করা হয়েছে। এবার আমরা আমাদের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে নতুন জামা তুলে দিতে পেরেছি। আমরা চাই এভাবে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসুক। তাহলেই আমরা সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারব।’