‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ পাঠে মুক্তচিন্তা ও জাতীয় চেতনার আলোচনা

ড্যাফোডিল বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসর।

‘আহমদ ছফা বিশ্বাস করতেন একজন লেখকের দায়িত্ব শুধু সাহিত্য সৃষ্টি নয়; বরং সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলা। তাঁর লেখায় মুক্তচিন্তা, জাতীয় চেতনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার প্রতিফলন পাওয়া যায়।’

লেখক, প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফার প্রথম প্রকাশিত ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ নিয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসরে এ কথা বলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা। গতকাল বুধবার রাত ১০টায় গুগল মিটে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

আহমদ ছফার জন্মদিনকে স্মরণ করে এই পাঠচক্রে তাঁর মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় চেতনা, রাষ্ট্রভাবনা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের আলোকে রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণা এবং তরুণ সমাজ, নাগরিক দায়িত্ব ও বাংলাদেশ ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন বন্ধুরা।

আহমদ ছফার জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করেন জেবা আনিকা। তিনি ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ গ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার প্রাসঙ্গিকতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় বইটির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের বিশ্লেষণ, বাঙালির সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং মুক্তিসংগ্রামের চেতনা বিশেষভাবে উঠে আসে। জেবা আনিকা বলেন, ‘১৯৭১ সালের অনিশ্চিত সময়ে দাঁড়িয়েও আহমদ ছফা স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখেছিলেন। তাঁর লেখা, “জয় স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জয়”—স্বাধীনতার প্রতি তাঁর অটুট বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের প্রতীক।’

সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ গ্রন্থের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বইটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, লেখকের চিন্তাধারা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁর আলোচনায় বইটির বিষয়বস্তু, ভাষাশৈলী ও আহমদ ছফার দূরদর্শী চিন্তার বিভিন্ন দিক সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তিনি উপস্থিত বন্ধুদের সামনে বইটির মূল ভাবনা ও প্রাসঙ্গিকতা সহজ ও সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করেন।

পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারী বন্ধুরা ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, স্বাধীনতার বহু বছর পরও বইটি জাতীয় চেতনা, নাগরিক দায়িত্ব, মুক্তচিন্তা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

এ ছাড়া পাঠচক্রে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়েও স্মৃতিচারণা করা হয়। বন্ধুরা তাঁদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং কীভাবে জুলাই আন্দোলন তাঁদের চিন্তাচেতনা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে প্রভাবিত করেছে, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন স্মৃতি ও অনুভূতিও ভাগাভাগি করেন উপস্থিত বন্ধুরা।

পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক অণীক ভূষণ সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ, অর্থ সম্পাদক রিজভী আমিন, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈম, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহিয়া তাবাসসুম, ফাইকুজ্জামানসহ অন্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা