সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রে বিভূতিভূষণের ‘ইছামতী’
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘ইছামতী’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘ইছামতী’ উপন্যাসের মূল চরিত্র ভবানী বাঁড়ুজ্যে একজন পরম ধার্মিক, সৎ ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ, যিনি সন্ন্যাসজীবন ছেড়ে আবার সাধারণ সংসারে ফিরে আসেন। তৎকালীন কুলীন প্রথার কারণে তিনি নীলকুঠির দেওয়ান রাজারামের তিন বোন তিলু, বিলু ও নীলুকে একসঙ্গে বিয়ে করে সংসারী হন। কাহিনির একদিকে চলে ইংরেজ নীলকুঠির সাহেব শিপ্টন ও দেওয়ান রাজারামের অমানবিক অত্যাচার এবং নীলচাষিদের কান্না। অন্যদিকে ভবানী এই হিংসা ও বৈরিতার মধ্যেও ইছামতী নদীর তীরে নিজের আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানবতার আদর্শে অটল থাকেন। মূলত চারপাশের সামাজিক অস্থিরতার বিপরীতে ভবানীর শান্ত, স্নিগ্ধ ও প্রকৃতিপ্রেমী জীবনবোধই এই কাহিনির মূল সুর।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের জন্মস্থান ও পৈতৃক ভিটা ইছামতী নদীর তীরে হওয়ায় এ অঞ্চলের প্রকৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক টান ছিল। তিনি ছোটবেলা থেকে পিতা ও ঠাকুরদাদার মুখে ১৯ শতকের নীলকুঠির অত্যাচার ও লোকশ্রুতির বাস্তব গল্প শুনে বড় হন। বাংলার ইতিহাসের সেই রক্তক্ষয়ী নীল বিদ্রোহের কাহিনি ও গ্রামীণ সমাজব্যবস্থাকে সাহিত্যের পাতায় অমর করে রাখাই ছিল তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ছাড়া মানুষের তৈরি হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যেও প্রকৃতির চিরন্তন শান্ত রূপ ও জীবনদর্শনকে ফুটিয়ে তোলার এক তীব্র তাগিদ তিনি অনুভব করেছিলেন।
বন্ধু আজিজুল হাকিম উপন্যাসের নামের সার্থকতা সম্পর্কে বলেন, পুরো উপন্যাসে ইছামতী নদী ছিল সব ঘটনার সাক্ষী। ভবানী বাঁড়ুজ্যের জীবন কিংবা নীলচাষিদের ওপর অত্যাচার—সব জায়গায় ছিল এই নদী। ভবানী বাঁড়ুজ্যের মানসিক চিন্তাচেতনার রসদ দিত এই নদী। তাই এই নদীর নামকরণ সার্থক হয়েছে।
লেখক পরিচিতি সম্পর্কে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক মহান লেখক। তিনি যেভাবে শব্দের জালে মানুষের প্রকৃতি প্রেম অনুভব করিয়েছেন, তা খুব কম লেখক করতে পেরেছেন। ওনার লেখায় একটা আলাদা রকম শক্তি আছে, যেটা ওনাকে না পড়লে বা না বুঝলে কেউ জানতেই পারবে না।’
বন্ধু বৃষ্টি দে পাঠ পরিচিতি নিয়ে বলেন, উপন্যাসে ইছামতী নদীর সৌন্দর্য যেমন বর্ণনা করা হয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে নীলচাষিদের ওপর বর্বর অত্যাচার।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, সমরজিত হালদার, গায়ত্রী বর্মণ, প্রাণেশ দাশ, অলক সরকার, পারমিতা রায়, লৈরিং, সাজন বিশ্বাসসহ অনেকে।