বৃষ্টিস্নাত সকালে মিষ্টি রোদের ঝলকানি, শুভ্র আকাশে ছেঁড়া মেঘের পাল ছোটাছুটি করছে। স্কুল মাঠের প্রবেশপথে বর্ষিয়ান কাঠবাদাম বৃক্ষের শির শির বাতাস, ময়না, শালিক, কাক, বুলবুলির মতো পাখিদের মেলা বসেছে গাছের ডালে। ঘড়ির কাঁটা তখন বেলা ১১টার ঘরে মিলিত হতে চলেছে। মাঠের দুই পাশে কিছু তরুণ এবং কিশোর মেতেছে ফুটবল খেলায়। গোল হলে চিৎকার দিয়ে উঠছে গোল গোল করে। বৃষ্টিভেজা সবুজ ঘাসের ডগায় পানি জমে আছে। কাদা শুভ্র বালুর চাদরে আবৃত সবুজ মাঠ। একপাশে পটিয়া স্কুল, অপর পাশে পটিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস।
পটিয়া স্কুলের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনার ছোট পুরোনো প্যাভিলিয়নে আমলকী, কৃষ্ণচূড়া, পেয়ারা, নিম, চালতাগাছের চারা এবং মৌসুমি ফলের বীজ নিয়ে পটিয়া বন্ধুসভার বন্ধুরা আনন্দে মেতেছে। হাতে গাছ নিয়ে কেউ কেউ গাছের সঙ্গে কথাও বলছে। প্রকৃতি নাকি উপভোগ করতে হয় রূপ–রস–গন্ধে। গাছের পাতায় হাত ভুলিয়ে দিচ্ছে। কেউ গাছ রোপণের জন্য গর্ত খনন করছে। এক বন্ধু কোদাল দিয়ে মাটি থেকে ঘাস ও আগাছা পরিষ্কার করে নিতে ব্যস্ত।
পটিয়াকে সবুজায়ন করতে ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে পটিয়া বন্ধুসভার এই উদ্যোগ। এর মধ্যেই বৃক্ষ ও মৌসুমি ফলের বীজ রোপণে সবুজ ভালোবাসা নিয়ে হাজির হন পটিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাংলাবিদ আবদুল আলিম। পটিয়া স্কুলের মাঠের পাশে এবং পটিয়া সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসে তাঁর নিজের হাতে লাগানো মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, আকাশমণি, নারকেল, কলাসহ নানা জাতের ফুল-ফলের বৃক্ষরোপণের কথা স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
নিজের লাগানো যে কটি গাছ আছে, সেগুলোর দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে গাছের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে অধ্যাপক আবদুল আলিম বলেন, ‘বৃক্ষকে ভালোবাসা মানে জীবনকে ভালোবাসা। আর জীবন ভালোবাসা মানে বৃক্ষকে ভালোবাসা। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। স্কুল মাঠে এবং কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে ক্যাম্পাসের অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পটিয়াকে সবুজায়ন করা জরুরি।’ পরে তিনি নিজ হাতে গাছের চারা ও মৌসুমি ফলের বীজ রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণের আয়োজন করার জন্য তিনি পটিয়া বন্ধুসভাকেও ধন্যবাদ দেন।
প্রথম আলো পটিয়া প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা পটিয়ায় অতীতেও নানা জাতের ফুল-ফলের গাছ রোপণ করেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বৃক্ষরোপণ করতে হাজির হয়েছে সবাই। গাছ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষরোপণসহ বন্ধুসভার ভালো কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
পটিয়া বন্ধুসভা উপদেষ্টা রশীদ এনাম কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা ও হুমায়ূন আহমেদের বৃক্ষপ্রেমের কথা তুরে ধরে বলেন, ‘পটিয়ায় সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে। একেকটা গাছ মানে আগামী দিনের একেকজন প্রকৃত বন্ধু। শুধু গাছ রোপণ করলে হবে না, পরিচর্যা করতে হবে নিয়মিত এবং মৌসুমি ফলের বীজ সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রোপণ করতে হবে।
সভাপতি আইরিন সুলতানার পরিচালনায় এবং বন্ধু প্রান্ত বড়ুয়ার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোকারম আলী, সুফি মুহাম্মদ রেজা, শচীন দে, শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম, পার্থ প্রতীম দাশ, তানাশ চৌধুরী, জাহেদ, আবু নয়ন, লোকমান হাকিম, মিমতাহুল জান্নাত, হুমাইরা জান্নাত, মুন শীল, রুবাইয়াত হাসান, সাইফসহ আরও অনেকে।