বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র করে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার ভবনের দ্বিতীয় তলায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতি সাবিনা আক্তারের সঞ্চালনায় বইটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইয়ারমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘“চাঁদের পাহাড়” একটা বাঙালি ছেলের গল্প। ছেলেটার নাম শঙ্কর। আমাদের মধ্যে অনেকেই শঙ্করের মাঝে নিজেকে খুঁজে পাব। আবার না পেলেও আমাদের সবারই শঙ্করের মতো এক–দুজন বন্ধু আছে। বাংলার চিরন্তন পাড়া-গাঁ, সে গাঁয়ের পথঘাট, সেখানকার সহজ–সরল মানুষজন, খুব চেনা মনে হবে। আমাদের মতোই শঙ্করও অনেক স্বপ্ন দেখে, অর্থসংকটে ভোগে, মাকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করে।’
ইয়ারমিন আক্তার বলেন, ‘বিছানায় শুয়ে আমরা যেমন স্বপ্ন দেখতাম, একদিন খুব বড় একটা অ্যাডভেঞ্চারে যাব, বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াব, হঠাৎ গুপ্তধন খুঁজে পাব। শঙ্করও তেমন স্বপ্ন দেখত। আমাদের সঙ্গে শঙ্করের পার্থক্যটা হলো, একদিন শঙ্করের স্বপ্নটা সত্যি হয়ে গেল।’
বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একদিন সব পিছুটান কাটিয়ে শঙ্কর চলে গেল আফ্রিকায়। শুরু হলো নতুন জীবন। অনিশ্চিত সে জীবনে অনেক নতুন কিছু শিখল, সেসবের সঙ্গে মানিয়ে নিল, বন্ধুত্ব পেল, ভালোবাসা পেল, ভালোবাসা হারালও। শঙ্কর ধীরে ধীরে পূর্ণ হয়ে উঠল। গল্পে আমরা গাঁয়ের ছোট্ট শঙ্করকে বড় হয়ে উঠতে দেখি, হোঁচট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে দেখি, হাল না ছাড়ার দৃঢ়তা দেখি। শঙ্করের গল্প আমাদের মাঝে আস্থা জাগায়, ফেলে আসা ভুলগুলোকে ছোট করে দেখতে শেখায়, আবার উঠে দাঁড়ানোর তাড়না দেয়।’
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু মৃদুল রাজবংশী, সাবিনা আক্তার, ইয়ারমিন আক্তার, মোস্তাকিম বিল্লাহ, ইয়াসির সান, আলামিন ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, জাহিন, তৃষ্ণা, দুর্জয়সহ অন্য বন্ধুরা।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক, শাবিপ্রবি বন্ধুসভা