বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্রের ‘বিপ্রদাস’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘বিপ্রদাস’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হতাশা চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রে উপন্যাসটির কাহিনি, চরিত্র, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক বাস্তবতা এবং তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিমানুষের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বন্ধুরা।

আলোচনায় উঠে আসে বিপ্রদাস ও দ্বিজদাসের চরিত্র, পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মানসিক দ্বন্দ্ব। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, শরৎচন্দ্রের রচনার বিশেষত্ব হলো, তিনি ব্যক্তিগত জীবনের গল্পের মধ্য দিয়েই বৃহত্তর সমাজের নানা সংকট ও পরিবর্তনকে তুলে ধরেছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ হাসান বলেন, ‘“বিপ্রদাস”–এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক আমার কাছে মনে হয়েছে মানুষের আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব। চরিত্রগুলো নিজেদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ধরে রাখতে গিয়ে যে সংকটের মুখোমুখি হয়, সেটিই উপন্যাসটিকে গভীরতা দিয়েছে।’

বন্ধু মরিয়ম বলেন, ‘শরৎচন্দ্র চরিত্রগুলোর আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে খুব স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছেন। “বিপ্রদাস” পড়তে গিয়ে শুধু চরিত্রগুলোর গল্প নয়, সেই সময়ের সমাজ, সম্পর্ক ও মানুষের চিন্তার পরিবর্তনকেও অনুভব করা যায়।’

সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘শরৎচন্দ্রের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ মানুষের জীবন ও অনুভূতিকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় গভীরভাবে তুলে ধরা। “বিপ্রদাস”-এর ক্ষেত্রেও চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সংকটের সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার একটি যোগসূত্র পাওয়া যায়।’

পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হাসান করিম।