শহীদ হাদির ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে পাঠচক্র
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কাব্যগ্রন্থ ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ২০ জানুয়ারি বিকেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বনমায়া প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি একাধারে লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামী ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অন্যতম মুখ ছিলেন। পাঠচক্রে তাঁকে স্মরণ, প্রতিবাদ ও চেতনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শুরুতে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার কো-কনভেনর আহসানউল্লাহ সজীব কবিতা আবৃত্তি করেন ও বন্ধুদের উদ্দেশে পাঠচক্র নিয়ে বিভিন্ন উপদেশ দেন। এরপর ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত কয়েকটি কবিতা পাঠ করা হয়। মুক্ত আলোচনা পর্বে বন্ধুরা শহীদ হাদির কবিতায় প্রতিফলিত মুক্তচিন্তা, দ্রোহ, মানবতা ও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। যেখানে তাঁর সাহিত্যিক অবদান এবং সমাজ ও রাজনীতিতে কবিতার ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বন্ধু নুসরাত অনন্যা বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কাছে উচ্চশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণির মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না।’
আরেকজন বন্ধু উল্লেখ করেন, ‘হাদি ভাই শহীদ হওয়ার পর তাঁকে অনুসরণ করার প্রবণতা দেখা গেলেও সমাজের সব শ্রেণি তাঁকে একইভাবে গ্রহণ করছে না।’ এই বিষয়টি পাঠচক্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
বন্ধু মাহি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘হাদি ভাই তাঁর মৃত্যুর পর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গিয়েছিলেন।’ তিনি হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
আরেক বন্ধু শহীদ ওসমান হাদি ও তাঁর কাজের প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেন। পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। তিনি এই আয়োজনের প্রশংসা এবং শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির চিন্তাধারার সঙ্গে মাওলানা ভাসানীর আদর্শের তুলনা করে বলেন, ‘হাদি ভাই একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। আমরা সবাই মিলে হাদি ভাইয়ের রেখে যাওয়া স্বপ্ন পূরণ করব।’
সভাপতি মুসাভভির সাকির বন্ধুদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই পাঠচক্র থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শিক্ষা নিতে হবে এবং দেশপ্রেমকে আরও জাগ্রত করতে হবে। পাঠচক্র আমাদের স্বাধীনচেতা, বিস্তারচিন্তা ও মুক্তচিন্তা ধারা নিয়ে চর্চা করার সুযোগ করে দেয়।’
বন্ধু সালমান ফারসি বলেন, ‘হাদি ভাই কখনো ধর্মভিত্তিক বিভেদে বিশ্বাস করতেন না। তিনি প্রতিটি ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্বের পক্ষে ছিলেন এবং জোরপূর্বক কোনো মত চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করতেন।’
সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘এ দেশে এমন হাজারো হাদি শহীদ হয়েছে; তবে আজ পর্যন্ত আমরা কারও বিচার পাইনি। আমরা সবার হত্যার বিচার চাই।’
পাঠচক্র শেষে সব বন্ধুর অংশগ্রহণে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর হাদি’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অনিক ভূষণ সাহা, বন্ধু রিজভী আমিন, মোস্তফা মাহফুজ, আবিদুর রহমান, ফারহান আনন্দ, নুসরাত অনন্যা, মুহাম্মদ নাঈম, রিফাতুল ইসলামসহ অন্য বন্ধুরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা