‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নিয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্র

ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম কালজয়ী ট্র্যাজেডি উইলিয়াম শেকস্‌পিয়ারের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। গত ১৯ জুলাই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বনমায়া প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা। তিনি নাটকটির মূল কাহিনি, ঘটনাপ্রবাহ, চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং ট্র্যাজিক পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জেবা আনিকা বলেন, ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ কেবল দুটি তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প নয়; বরং এটি ঘৃণা, অহংকার ও পারিবারিক বিরোধের ভয়াবহ পরিণতির এক শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি। একই সঙ্গে তিনি নাটকটির মাধ্যমে ভালোবাসা, ক্ষমা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর
ছবি: বন্ধুসভা

সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ফারসী উইলিয়াম শেকস্‌পিয়ারের জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং বিশ্বসাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি শেকস্‌পিয়ারের নাট্যরীতি, ভাষার সৌন্দর্য এবং মানবজীবনের গভীর আবেগকে তুলে ধরার অনন্য দক্ষতার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ‘হ্যামলেট’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘ওথেলো’ ও ‘কিং লিয়ার’-এর মতো কালজয়ী রচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিশ্বসাহিত্যে শেকস্‌পিয়ারের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেন।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ত্বোয়া-হা ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। তিনি নাটকটির প্রেম, আত্মত্যাগ, ভুল–বোঝাবুঝি এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো বর্তমান সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্যে সাহিত্যপাঠের গুরুত্ব এবং ক্ল্যাসিক সাহিত্য থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উঠে আসে।

পাঠচক্র শেষে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অন্য বন্ধুরাও নাটকটির বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত ও পাঠ-অনুভূতি ভাগাভাগি করেন। তাঁদের মতে, শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ মানুষের ভালোবাসা, সম্পর্ক, পারিবারিক সংকট এবং মানবিক মূল্যবোধের এক চিরন্তন দলিল হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বক্তারা বলেন, সময়ের পরিক্রমায় সমাজ ও সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটলেও নাটকটির শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি ভালোবাসা, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পাঠচক্র শেষে অংশগ্রহণকারী সব বন্ধুর মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। বইপাঠের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অণীক ভূষণ সাহা, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, বন্ধু আব্দুর রহিম, মাহজাবিন মায়িশা, ফাইকুজ্জামানসহ অন্য বন্ধুরা।

পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা