সত্যজিৎ রায় ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রকে নিয়ে যান এক অনন্য উচ্চতায়। পথের পাঁচালী, দেবী, চারুলতার মতো চলচ্চিত্রগুলো বাংলার আজীবন রত্ন। আবার একই সঙ্গে গোয়েন্দা ফেলু মিত্তির কিংবা প্রফেসর শঙ্কু; বাংলা সাহিত্যেও সৃষ্টি করেছেন একের পর এক অমূল্য চরিত্র।
১০ এপ্রিল বিকেলে ফেলুদা সিরিজের বোম্বাইয়ের বোম্বেটে বই নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে বইটির ইতিহাস একটু আলাদা। এটি ফেলুদা এন্ড কোং আকারে ১৯৬৫–এর দশকে প্রকাশিত হয়। বোম্বাইয়ের বোম্বেটে বইটির নামের অর্থ বিশ্লেষণ করতে গেলে দাঁড়ায় বোম্বাইয়ের বা মুম্বাইয়ের ডাকাত। কিন্তু উপন্যাসে বোম্বাইয়ের বোম্বেটে হলো রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক জটায়ুর লেখা একটি বই; যা নিয়ে লেখক হিসেবে বলিউডে পদার্পণ করেন লালমোহন গাঙ্গুলী। একই সঙ্গে মুম্বাই শহরও স্বাগত জানায় থ্রি মাস্কেটিয়ার্সকে। কিন্তু স্বাগতটা জটায়ুর জন্য আরেকটু সুখকর হলেও পারত। এবার রহস্যের পেছনে ফেলুদা নয়; ফেলুদার পেছনে ছুটতে ছুটতে রহস্য এবার পৌঁছায় মুম্বাই। আর মাধ্যম হলেন লালমোহন গাঙ্গুলী। তারপর একের পর এক যুক্ত হতে থাকে স্মাগলিং, খুন আর গুলবাহার সেন্টের সাসপেন্স। সব মিলিয়ে ফেলুদা এবারও অনবদ্য।
পাঠ পর্যালোচনায় বন্ধু প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘ফেলুদা সিরিজের অন্যান্য বইগুলো থেকে বোম্বাইয়ের বোম্বেটে একটু আলাদা ধাঁচের। এতে থ্রিলার আর সাসপেন্সের কমতি নেই।’
চরিত্র বিশ্লেষণে বন্ধু মিনথিয়া রহমান বলেন, ‘ফেলুদা, তোপসে আর জটায়ু ছাড়াও পরিচালক পুলক ঘোষাল আর স্টান্টম্যান ভিক্টর পেরোমালের ভূমিকা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।’
বন্ধু জামিউল হাসান বলেন, ‘ফেলুদা সিরিজের অন্য বইগুলার মতো এটাতেও লেখক নতুন আরেকটি শহরকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। বিলবোর্ড, আলোর ঝলকানি, আধুনিকতা—সব মিলিয়ে মুম্বাই শহরকে পাঠকের কল্পনাচিত্তে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, শেখ ফয়সাল আহমেদ, সুবর্ণা দেব, রেজাউল ইমন, সমরজিৎ হালদার ও প্রত্যাশা তালুকদারসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা