হাবিপ্রবিতে বই উৎসব

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাবিপ্রবি বন্ধুসভার উদ্যোগে চার দিনব্যাপী বইমেলাছবি: আশিকুর রহমান ভূঞা

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পা রাখতেই ভেসে আসছে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর মলাট ওলটানোর শব্দ। শিক্ষার্থীদের কেউ বইয়ের পাতায় ডুবে, কোথাও বন্ধুরা জটলা বেঁধে গল্পে মশগুল; তার মধ্যেই বইয়ের স্টল, কারুকাজ আর শব্দের এক উজ্জ্বল উৎসব। ৪ মে সকাল থেকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছে বইপ্রেমীদের একখণ্ড মিলনমেলা। হাবিপ্রবি বন্ধুসভার উদ্যোগে বইমেলাকে কেন্দ্র করে যেখানে পছন্দের বই কেনাবেচার পাশাপাশি চলছে সেই বই নিয়ে আলোচনা।

গত সোমবার সকাল ৯টায় চার দিনব্যাপী এই বইমেলার উদ্বোধন করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. এনাম উল্যা। এমন উদ্যোগের জন্য বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'আজকাল বই পড়ার অভ্যাস প্রায় বিলুপ্তির পথে। মুঠোফোনে আসক্তির কারণে বর্তমান প্রজন্ম বই পড়ার অভ্যাস ভুলে যাচ্ছে। এমন সময়ে বইমেলা আয়োজন করায় এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ হবে বলে বিশ্বাস করি।' এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা সব সময় অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

স্টল ঘুরে দেখছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. এনাম উল্যা।

প্রতিদিন সকাল ৯টায় মেলা শুরু হয়ে চলছে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আজ বৃহস্পতিবার শেষ হবে বইয়ের এ উৎসব। মেলায় রয়েছে ১৪টি বইয়ের স্টল, যেখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর বইয়ের সমারোহ সাজিয়ে বিক্রি করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া রয়েছে দুটি খাবারের স্টল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কারুপণ্যের কয়েকটি ব্যতিক্রমী স্টল। বইয়ের পাতার ঘ্রাণের সঙ্গে সৃজনশীলতার এই সংমিশ্রণ মেলাকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা।

মেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তিসহ মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে হাবিপ্রবি বন্ধুসভার বন্ধুদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বইমেলার বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থীদের ভিড়।

বইমেলা উপলক্ষে এবার ‘বুক রিভিউ' নামে ভিন্নধর্মী একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়া বইয়ের রিভিউ লিখছেন এবং সেগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে হাবিপ্রবি বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে। আজ মেলার শেষ দিন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। মেলাকে কেন্দ্র করে প্রিয়জনকে বই বা চিঠি উপহার দিচ্ছেন অনেকে।

বইমেলা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্ন রকম উচ্ছ্বাস। পুরোনো পাঠকদের পাশাপাশি বই কেনায় নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ চোখে পড়েছে। এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, 'বই আমাদের মননশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বইমেলা যেন জ্ঞানপিপাসু মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর এক নির্মল সরোবর। এখান থেকে পছন্দের বই কিনতে পেরে ভালো লাগছে।'

প্রথমদিন বইমেলার উদ্বোধন করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. এনাম উল্যা।

এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন হাবিপ্রবি বন্ধুসভার সভাপতি আশিকুর রহমান ভূঞা। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা বইমেলার আয়োজন করি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে এবারের মেলাটি ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মে মাসে আয়োজন করা হলো। বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করেছি, যেখানে সাজসজ্জায় বইকেন্দ্রিক একটি আবহ তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।'

সাধারণ সম্পাদক সাজিয়া সারমিন বলেন, ‘আশা করছি, একঘেয়ে একাডেমিক বইয়ের বাইরে নতুন জ্ঞান আহরণ ও বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টিতে এই বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'

বন্ধুসভার বন্ধুদের প্রত্যাশা, বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকা হাজারো গল্প, অনুভূতি আর জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হাবিপ্রবির এই বইমেলা হয়ে উঠবে শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা, যেখানে শব্দরা কথা বলবে, আর পাঠক খুঁজে পাবে নিজের এক নতুন জগৎ।

বইমেলা সম্পাদক, হাবিপ্রবি বন্ধুসভা