‘বর্তমান সময়ে যখন সমাজে অসহিষ্ণুতা, অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়, তখন প্রথম আলো বন্ধুসভার মতো সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। বন্ধুসভা তার কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে ভালোবাসা, যুক্তিবোধ ও মানবিকতার পথে আহ্বান জানাচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। আশা করি, ভবিষ্যতেও বগুড়া বন্ধুসভা তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে আরও সংগঠিত, আরও সৃজনশীল ও আরও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে আলোর বার্তা পৌঁছে দেবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে বন্ধুসভার প্রতিটি উদ্যোগ হোক সাহসী, সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ী।’
বগুড়া বন্ধুসভার কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে বন্ধুদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রথম আলো বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা আনোয়ার পারভেজ। ১৫ জানুয়ারি বিকেলে প্রথম আলো বগুড়া অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সব সদস্যের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টারা নবীন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
দায়িত্ব গ্রহণকালে নবগঠিত কমিটির সভাপতি জনাব ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা সব সময়ই সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক কার্যক্রম ও তারুণ্যের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে আসছে। নতুন বাংলাদেশে দেশের পিছিয়ে পরা মানুষের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। এই দেশের মাটিতে মিশে আছে লাখো শহীদের রক্ত, কৃষকের ঘাম, মায়ের দোয়া আর শ্রমজীবী মানুষের নিরলস পরিশ্রম। তাই দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আমরা চাই, আমাদের পদযাত্রা হোক সেই আলোর পথেই।’
সাধারণ সম্পাদক মাহির ফয়সাল বলেন, ‘তারুণ্যই আমাদের শক্তি। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, সমাজের জন্য একরাশ আলোর মশাল নিয়ে আমরা এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করি। পথে অনেক বাধাবিপত্তি এলেও যেন দমে না যায় আমাদের শক্তি। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যদি আমরা সবাই দেশকে অগ্রাধিকার দিই, তবে উন্নয়ন শুধু কথায় নয়, বাস্তবেও প্রতিফলিত হবে।’
সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল্ গালিব খাঁন বলেন, ‘আমাদের দেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। এই সংস্কৃতি আমাদের অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিকতা ও প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করে। সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি মানুষকে মানুষ করে, সমাজকে আলোকিত করে। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় সম্পৃক্ত করা আজ অত্যন্ত জরুরি। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা, কর্মশালা ও সৃজনশীল আয়োজনের মাধ্যমে সবাইকে যুক্ত করতে হবে।’
উপদেষ্টা চন্দন কুমার রায় বলেন, ‘এই সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর তরুণ সদস্যরা। তাঁদের চিন্তা, কর্ম ও দায়বদ্ধতাই আগামীর সুন্দর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বন্ধুসভা সেই আলোকবর্তিকা, যা তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলে। আশা করি, প্রথম আলো বন্ধুসভা আগামীতেও তার মানবিক ও গঠনমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
উপদেষ্টা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ভালোর সাথে আলোর পথে হাঁটার এ অঙ্গীকারই বন্ধুসভা ও এর কার্যক্রমকে সাহসী করে তোলে। ভালোর পথে ও সত্যের পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়াই হোক নতুন বছরে নবগঠিত কমিটির অঙ্গীকার। নবগঠিত কমিটিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও সক্রিয় ও সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
এ ছাড়া শুভেচ্ছা জানান প্রথম আলো বগুড়ার অফিস ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম ও বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান। সঞ্চালনা করেন বগুড়া বন্ধুসভার সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত কমিটিসহ নতুন বন্ধুরা। শেষে নতুন কমিটির সফলতা কামনা করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।