‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস নিয়ে খুলনা বন্ধুসভার পাঠচক্র
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ নিয়ে পাঠচক্র করেছে খুলনা বন্ধুসভা। ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম গুগল মিটে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘হাজার বছর ধরে’ মূলত গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, তাদের দারিদ্র্য, সামাজিক বাস্তবতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক টানাপোড়েন, প্রেম–বিরহ ও জীবনসংগ্রামের এক গভীর চিত্র তুলে ধরে। উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনার মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কীভাবে একই ধরনের সামাজিক সংকট ও বঞ্চনা মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে নারীর অসহায়ত্ব, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলো উপন্যাসটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথির সঞ্চালনায় পাঠচক্রে ‘হাজার বছর ধরে’ নামকরণের তাৎপর্য, চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব ও উপন্যাসে প্রতিফলিত গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বাস্তবতার মিল–অমিল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বন্ধু সুদীপ্ত রায় বলেন, ‘বইটির মধ্যে সমাজের দীর্ঘদিনের নানা সংকট ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি রয়েছে। বইটি পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা অতীতের সমাজকে যেমন জানতে পারি, তেমনি বর্তমান সমাজকেও নতুন করে ভাবার সুযোগ পাই।’
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘জহির রায়হান এই উপন্যাসে সাধারণ মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। দারিদ্র্য, কুসংস্কার, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর প্রতি অবহেলার যে চিত্র উঠে এসেছে, তার অনেক কিছুই এখনো আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে বিদ্যমান। তাই নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের বই নিয়ে আলোচনা করাও জরুরি।’
সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এম মাসুম বিল্যাহ বলেন, এই উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের জীবনসংগ্রাম। প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ কীভাবে টিকে থাকে।
এ ছাড়া সভাপতি স্বর্ণকমল রায় ও সহসভাপতি দিপু রায় তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাঠচক্র শেষে বন্ধু রেজওয়ানা ইসলাম একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন উপদেষ্টা আসফিক আহমাদ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমাতুল্লাহ ও ইমন মিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য ফারিয়া ঝিলাম, বন্ধু আবু হানিফা, লিমা আক্তার, আল কাফি মৃদুলসহ অনেকে।