নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে হবে

খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনাছবি: সাদ্দাম হোসেন

শিক্ষার্থীদের কেউ মা–বাবাকে নিয়ে, কেউ ভাইবোন নিয়ে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিল সংবর্ধনায়। সকাল সাড়ে আটটা বাজার আগেই শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে খুলনা জিলা স্কুল মাঠ। তাদের হইহুল্লোড়ে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। ছোট ছোট দলে চলছিল আড্ডা। স্কুলজীবনের কাছের বন্ধু ও সহপাঠীদের দেখে কেউ কেউ জড়িয়ে ধরছিল। কেউ আবার মুঠোফোনে সেলফি তুলে ধরে রাখছিল স্মৃতি।

খুলনা সরকারি মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুশরা জামান বলে, ‘প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রোগ্রাম একটি আনন্দঘন মুহূর্ত। এটির জন্য দীর্ঘ দিনের অপেক্ষা ছিল। আয়োজন বেশ উপভোগ করছি।’

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় ৩ অক্টোবর খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানে এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে খুলনা বন্ধুসভা।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি স্বর্ণকমল রায়ের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তম মণ্ডল।

ছবি: সাদ্দাম হোসেন

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘তোমাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে হবে। মনে রাখবে, তারুণ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক পথে, মানুষের কল্যাণে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজে লাগাতে হবে।’

খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের নায়কেরা বেরিয়ে আসবে। পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তাই আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে, আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। শুধু জিপিএ-৫ পাওয়াই জীবনের বড় অর্জন নয়, তোমাদের একজন আলোকিত মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলতে শপথ পাঠ করান প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বলেন, ‘পাঠ্যবই পরীক্ষায় পাস করার জন্য; কিন্তু পৃথিবীকে জানার জন্য নানা ধরনের বই পড়তে হবে। উপন্যাসও পড়তে হবে, সিনেমা দেখতে হবে, গানও শুনতে হবে। এসব তোমাদের একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।’

এরপর কুইজ বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাজ্জাদ শরিফ।

ছবি: সাদ্দাম হোসেন

বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, নতুন নেটওয়ার্ক
ফুলতলার রহমানিয়া এলিমেন্টরি অ্যান্ড সেকেন্ডারি স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মরিয়ম আক্তার বাবা শেখ মাহবুব হোসেনের সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসে। এ ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম অংশ নিয়েছে সে। মরিয়ম বলল, ‘প্রথমবারের মতো এমন কোনো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এলাম। অন্য বন্ধুরাও এসেছে। স্কুলের অনেক বন্ধু অন্য কলেজে ভর্তি হয়ে গেছে, তাদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। খুবই ভালো লাগছে।’

পাইকগাছার শহীদ কামরুল মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ফারদিন ইসলামও এসেছিল দুই বন্ধুর সঙ্গে। একই স্কুলের এই তিন বন্ধু ভর্তি হয়েছে পাবলিক কলেজে। ফারদিন বলল, ‘অনেক ভালো লাগছে। অনেকের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটা নেটওয়ার্কও তৈরি হচ্ছে।’

মেয়ের মেয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসেন বীথি সাধু। তাঁর নাতনি তিতলি দত্ত ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালীর একটি স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে খুলনা মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছে। তিতলি বলল, ‘আমার বন্ধুদের বেশির ভাগই ফরিদপুরের কলেজে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ নেই; কিন্তু নতুন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, কথা হবে, এটা একটা বড় বিষয়।’

ছবি: সাদ্দাম হোসেন

শেষ মুহূর্তে উপহার পাওয়ার আনন্দ
খুলনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মাহফুজা মালিয়াতও এসেছিল অনুষ্ঠানে। তবে ভুলে মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে না আনায় কিছুটা বিপাকে পড়ে সে। অন্যরা যখন উপহার নিচ্ছিল এবং উদ্‌যাপন করছিল, তখন মন খারাপ হয়ে যায় মাহফুজার।

মঞ্চের কাছে এসে সমস্যার কথা জানায় সে। মাহফুজা বলল, ‘সবাই উপহার নিচ্ছে, উদ্‌যাপন করছে, আমি পারব না ভেবে খুব খারাপ লাগছিল। খুব টেনশন হচ্ছিল। আমিও সব নিতে পারব জেনে ভালো লাগছে।’

সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন ঐন্দ্রিলা রায় ও অ্যাথেনা রায়। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও গান ও আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নেয়। অনুষ্ঠানের শেষাংশে শিল্পী মিঠুন রায়ের গানে মাতে শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে খুলনা বন্ধুসভার উপদেষ্টা আসফিক আহমেদ সিদ্দিকী, তুহিন রায়, বনানী আফরোজ ও জয়তীশ মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি, সহসভাপতি দীপু রায় ও হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমাতুল্লাহ ও ইমন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন বাউলিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত গাইন, বন্ধু সালাউদ্দিন সাবাদ, লিমা আক্তার, পূজা রায়, প্রদীপ্ত মন্ডল, আলোক বৈদ্য, আবু হানিফা, সুদীপ্ত রায়সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণ সম্পাদক, খুলনা বন্ধুসভা