কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকীতে পাঠের আসর

নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠের আসরছবি: বন্ধুসভা

১৫ আগস্ট ছিল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিকেল চারটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে কবির লেখা সাহিত্যকর্ম ও জীবনী নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে নোয়াখালী বন্ধুসভা।

পাঠচক্রে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিবাদী ও প্রগতিশীল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও তাঁর লেখায় ফুটে ওঠা সমাজ বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্ম নেওয়া সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলেও স্বল্প সময়ের সাহিত্যচর্চায় বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্থান করে নেন। তাঁর রচনায় ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়িত মানুষের কথা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘হরতাল’সহ বিভিন্ন রচনার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

পাঠচক্রের শুরুতে সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদের কণ্ঠে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কালজয়ী কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’ আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চ। এরপর বন্ধু তাবাসসুম ইসলামের কণ্ঠে ‘সিঁড়ি’ কবিতার আবৃত্তি পাঠচক্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তাঁদের প্রাণবন্ত আবৃত্তিতে কবির কবিতার চেতনা ও তারুণ্যের উদ্দীপনা আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

সভাপতি আসিফ আহমেদ বলেন, ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য শুধু একজন কবি নন, তিনি আমাদের সমাজ ও সময়ের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য আমাদের অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে কথা বলতে ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রেরণা দেয়। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে পাঠচক্রের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাধারা তুলে ধরার এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ বলেন, ‘সুকান্তের লেখায় আমরা তাঁর সময়ের সমাজ বাস্তবতার পাশাপাশি একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতে পাই। তাঁর সাহিত্য পাঠের মধ্য দিয়ে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশ্বাস করি।’

সাবেক সভাপতি উম্মে ফারহিন বলেন, ‘সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক। অল্প বয়সে তিনি যে গভীর জীবনবোধ ও সমাজচেতনার পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার। পাঠচক্রের মতো আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।’

পাঠচক্র শেষে নোয়াখালী বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

পাঠচক্রে সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর স্মৃতিচারণার পাশাপাশি বন্ধুসভার বন্ধুরা তাঁর লেখা ‘লেজের কাহিনী’ পাঠ করেন। ‘লেজের কাহিনী’ সোভিয়েত শিশুসাহিত্যিক ভিতালি বিয়াঙ্কির ‘টেইলস’ গল্পের সুকান্ত ভট্টাচার্য অনূদিত রূপ। গল্পে একটি মাছি মানুষের কাছে লেজ চায়। মানুষটি তাকে বিভিন্ন প্রাণীর লেজের প্রয়োজনীয়তা দেখে আসতে বলে। মাছি একে একে গুটিপোকা, মাছ, চিংড়ি, হরিণ ও কাঠঠোকরার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, তাদের লেজ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, প্রত্যেকের জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় কাজে এর নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাছি গরুর লেজের প্রয়োজন জানতে গেলে গরু লেজ দিয়ে মাছিটিকে আঘাত করে ফেলে দেয়। গল্পটির মধ্য দিয়ে প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা এবং অযথা অন্যকে বিরক্ত না করার একটি রসাত্মক ও শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরা হয়েছে।

পাঠচক্র শেষে সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিজয়ী হন বন্ধু তাবাসসুম ইসলাম ও ফাইজা। পরে বিজয়ীদের হাতে উপহার হিসেবে বই তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ, প্রচার সম্পাদক ধ্রুব ভূঁইয়া ও বন্ধু আফরিনা আনিকাসহ অনেকে।

অর্থ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা