প্রায় পাঁচ মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন প্যাডেলচালিত ভ্যানটি। একদিকে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে ভ্যান মেরামতের টাকা জোগাড় করা—এই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল ৭০ বছর বয়সী ভ্যানচালক আবদুস সামাদের। অবশেষে তাঁর অসহায়ত্বের খবর পেয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন পঞ্চগড় বন্ধুসভার সদস্যরা। তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে ভ্যানটি মেরামত করে দিয়েছেন।
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভার ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর ভ্যানটি মেরামত করে দেওয়া হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
আবদুস সামাদের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকায়। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগমের বয়স ৬০ বছর। এই বৃদ্ধ দম্পতির কোনো ছেলে নেই। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। সাড়ে ১৬ শতক ভিটেমাটি ছাড়া সামাদের আর কোনো আবাদি জমি নেই।
সংসার চালানো ও স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাড়িতে একটি গাভি পালন করেন সামাদ। গাভিটি প্রতিদিন প্রায় দুই কেজি দুধ দেয়। সেই দুধ বিক্রির টাকায় কোনোমতে চলছিল সংসার ও স্ত্রীর চিকিৎসা। কিন্তু ভ্যানটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর থেকে আয় করার পথ বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনে ভ্যানটি মেরামত করাতে পারেননি।
রোববার বন্ধুসভার সদস্যরা ভ্যানটি মেরামত করে দিলে স্বস্তি ফিরে আসে সামাদের চোখমুখে। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বন্ধুসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
আবদুস সামাদ বলেন, ‘মোর বাড়িওয়ালির (স্ত্রী) অসুখ। গাই গরুর দুধ বেচে কুনোমতে দুইজনের খাবার আর ঔষধ কিনেছু। ভ্যানখান ঠিক (মেরামত) করার টাকা হয় না। ভ্যান ঠিকঠাক করে দিয়া তুমুরা মোর খুপে উপকার করলেন বাপু।’
ভ্যান মেরামতের কাজ করেন স্থানীয় মেকানিক রাজু ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৮ থেকে ৯ মাস আগে বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়ে সামাদ একবার ভ্যানটি মেরামত করেছিলেন। এরপর আবার নষ্ট হলে টাকার অভাবে যন্ত্রপাতি কিনতে না পারায় আর মেরামত করাতে পারেননি। এমন একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আপনারা অনেক ভালো কাজ করলেন।’
পঞ্চগড় বন্ধুসভার সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বন্ধুসভার একটি ভালো কাজের অংশ হিসেবে আমরা এ রকম একজন অসহায় ভ্যানচালকের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। কাজটি করতে পেরে আমরা খুশি। এতে যাঁরা আমাদের সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’