জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর জীবন, সাহিত্য ও মানবিক সত্তাকে নতুনভাবে আবিষ্কারের লক্ষ্যে বিশেষ পাঠের আসর করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল আশীফ এন্তাজ রবির উপন্যাসধর্মী জীবনীগ্রন্থ ‘আমারে দেব না ভুলিতে’। একই সঙ্গে কবির সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর রচিত ‘সাপুড়ে’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘জোহরনামা’ নিয়েও বিশদ মতবিনিময় হয়।
মূল আলোচক হিসেবে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। নিজ বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন নজরুলের বহুমাত্রিক পরিচয়-বিদ্রোহী চেতনার পাশাপাশি প্রেমিক, পিতা ও গভীর সংবেদনশীল এক রক্ত-মাংসের মানুষের রূপ।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নজরুলের সাহিত্যকর্মে যেমন বিদ্রোহ ও সাম্যের সোচ্চার উচ্চারণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও জীবনের গভীরতম অনুভব। প্রচলিত জীবনীগ্রন্থের বাইরে গিয়ে আশীফ এন্তাজ রবির “আমারে দেব না ভুলিতে” বইতে নজরুলের ব্যক্তিজীবনের বহু অজানা ও মানবিক অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। নার্গিস, প্রমীলা ও ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবঘুরে জীবনের দারিদ্র্য এবং শেষ জীবনের করুণ স্তব্ধতার আড়ালে থাকা একজন পূর্ণাঙ্গ নজরুলকে নতুন করে চেনার সুযোগ করে দেয় এই পাঠ।’
পাঠচক্রে নজরুলের গদ্যসাহিত্যের শক্তি হিসেবে তাঁর ‘সাপুড়ে’ গল্প এবং এর ভিত্তিতে নির্মিত নাটক ‘জোহরনামা’র বিভিন্ন দিকও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। গ্রামীণ প্রেক্ষাপট, প্রান্তিক মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং সমাজবাস্তবতাকে নজরুল যেভাবে নাট্যরূপে ধারণ করেছেন, তা আলোচনায় উঠে আসে। কেবল বিপ্লবী বা চারণ কবি হিসেবে নয়; বরং প্রেম, বেদনা, সংগ্রাম ও মানবিক অনুভূতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে নজরুলকে অনুধাবনের চেষ্টা করেন উপস্থিত বন্ধুরা।
পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অরূপা রহমান, অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ এবং বন্ধু সাকিব রহমানসহ আরও অনেকে।
সহসাংগঠনিক সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা