জন্মদিনে রবীন্দ্রনাথের ‘মালঞ্চ’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর

পাঠচক্র শেষে ময়মনসিংহ বন্ধুসভার বন্ধুরাছবি: বন্ধুসভা

আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে কবির অনন্য সৃষ্টি ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। সকালে নগরীর গভ. ল্যাবরেটরিজ হাইস্কুল মাঠ-সংলগ্ন রবীন্দ্র বটমূল চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরানের সঞ্চালনায় প্রথমেই উপন্যাসটি বিস্তারিত আলোকপাত করেন জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তৃণা কবির। তাঁর বক্তব্য উঠে আসে, এই উপন্যাস মূলত মানুষের মন, সম্পর্ক, ভালোবাসা ও সন্দেহের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

তৃণা কবির বলেন, ‘ভালোবাসার মধ্যে সন্দেহের প্রবেশ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা এই উপন্যাসের নীরজা আর আদিত্যর বিবাহিত সম্পর্ক দেখে বোঝা যায়। দশ বছর! নেহাতই কম সময় নয়, ১০ বছরের সাজানো একটা সংসারে সন্দেহ কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা এই গল্প আমাকে চাক্ষুষ করিয়েছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনন্য সৃষ্টি ‘মালঞ্চ’।

‘তবে আমি এও দেখেছি, আদিত্য কীভাবে তার ভালোবাসার রং বদলেছে। আবার কখনো আদিত্যকে মনে হয়েছে ভালোবাসার চেয়েও আবেগের অস্থিরতায় ভোগা এক সাধারণ স্বামী, যে তার কর্মব্যস্ততায় প্রেম হারিয়ে ফেলেছিল; তবে সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত আমার জানা নেই। কারণ, কখনো কখনো মনে হয়েছে নীরজার অসুস্থতায় কীভাবে আদিত্যের ভালোবাসা বদলাতে পারে? ভালোবাসা কি এতই তুচ্ছ! এই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি।

‘সরলাকে নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবে কিছু পরিমাণ মায়া হয় বৈকি। নীরজার মৃত্যু আর মৃত্যুর আগে সরলাকে দেখতে চাওয়ার আকুতি আমাকে বিষণ্ন করেছে।’

সহসাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘“মালঞ্চ” আমাদের শেখায়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও খোলামেলা যোগাযোগ। মালঞ্চ এখানে শুধু একটি বাগান নয়, এটি মানুষের হৃদয়ের প্রতীক, যেখানে যত্ন না নিলে আগাছা জন্মায়, আর যত্ন পেলে ফুল ফোটে।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়া, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ফারদিন হাসান, বন্ধু রুপা চন্দ ও রিয়াজুল ইসলাম।

সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা