দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আলম মিয়া। গরম কাপড় ছাড়াই শীত পার করছেন। শীতবস্ত্র বিতরণের সংবাদ জানতে পরে একজনকে নিয়ে উপস্থিত হন। আসা মাত্রই আয়োজকেরা হাতে তুলে দিলেন কম্বল। এতে তাঁর মুখে ফুটে উঠল রাজ্যের হাসি। বাকি দিনটি কম্বল দিয়েই ভালোভাবে কাটাতে পারবেন বলে জানান তিনি।
২৯ জানুয়ারি বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার উদ্যোগে বিভিন্ন বয়সের ১০০ মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শহরের কলেজপাড়ায় অবস্থিত আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এগুলো বিতরণ করেন বন্ধুরা।
বিকেলে শহরের বিভিন্ন এলাকার রিকশাচালক, ভবঘুরে, ভিক্ষুক, গৃহপরিচারিকা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দারোয়ানসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে জড়ো হন। শীতবস্ত্র বিতরণে সহায়তা করে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশন। কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সৈয়দ তৈমুর।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনা বালা মল্লিক, পরিচালক ও বন্ধুসভার সাবেক সহসভাপতি হারুনুর অর রশিদ, পরিচালক ও বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি শাহীন মৃধা, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি অভিজিৎ রায়, সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সদস্য পারভেজ সুমন, আসাদুর রহমান, শাহাদাত হোসেন, উৎস, রাব্বানী, বন্ধুসভার সভাপতি শাজাহান মিয়া, সহসভাপতি অনন্যা সাহা ও শারমিন আক্তার, সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক প্রাচী আক্তার, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নিঝুম আক্তার, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক আঁখি আক্তার, বন্ধু মাইনুদ্দিন রুবেল ও আরেফিন শোভন এবং প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদৎ হোসেন।
কম্বল উপহার পেয়ে শীতার্ত কমলা বেগম বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে ঘর মুছার কাজ করি। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। প্রথম আলো বন্ধুসভার দেওয়া কম্বল দিয়ে সন্তানরা কিছুটা হলেও শীত ভালোভাবে কাটাতে পারবে।’
শহরের কান্দিপাড়ার ৭৫ বছর বয়সী ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘বুড়া হয়ে গেছি। কেউ কোনো খোঁজখবর রাহে না। এইবার বন্ধুসভার পুলামাইরা কম্বলের ব্যবস্থা কইরা দিছে। আল্লাহ হেরারে বাঁচাইয়া রাখুক।’
রিকশাচালক আজিজ মিয়া বলেন, ‘অসুস্থ শরীর লইয়্যা রিকশা চালাই। খুব বেশি আয় হয় না। কম্বল কিনার টেকা নাই। তৈমুর ফাউন্ডেশনের উসিলায় বন্ধুসভার থেইক্যা কম্বল পাইলাম। এমন কাজ করলে আমরার মতো গরিবরা বাঁইচা থাকতে পারব।’
সংগঠক সৈয়দ তৈমুর বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা সব সময় ব্যতিক্রমী কাজ করে। সংগঠনের প্রতিটি কাজে রয়েছে ভিন্নতা। যা খুব প্রশংসনীয়। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ভালো চিন্তা করার চেয়ে শ্রেয় আর কোনো কাজ হতে পারে না। এতে প্রতীয়মান হয়, ‘ভালোর সঙ্গে আলোর পথে’ আছে। তাদের এই কাজের অংশীদার হতে পেরে ভালো লাগছে। আমার ক্ষুদ্র জায়গা থেকে সহায়তার চেষ্টা করেছি। বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ এই সুযোগ দেওয়ার জন্য।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সভাপতি শাজাহান মিয়া বলেন, ‘১০০ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। নিতান্তই গরিব, প্রতিবন্ধী ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে খেটে খাওয়া মানুষদের চিহ্নিত করে তালিকার মাধ্যমে এ কাজ করা হয়। মহৎ এই কাজে সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসায় তাদের ধন্যবাদ।’