মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আত্মহত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। মানসিক টানাপোড়েন, তীব্র বিষণ্নতা কিংবা একাকিত্ব আড়াল না করে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা নিয়ে বিশেষ সেমিনার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় ভার্চ্যুয়ালি এটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’র সহযোগিতায় জাবি বন্ধুসভার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি এই সেমিনার সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন পেশাদার সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর আনতাজ হেনা আঁখি। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার গিয়াস উদ্দিন।
সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর আনতাজ হেনা আঁখি আত্মহত্যার ঝুঁকি, মানসিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ এবং তা শনাক্ত করার উপায় নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়। যে কেউ জীবনের যেকোনো পর্যায়ে তীব্র মানসিক চাপ, ব্যর্থতা, ট্রমা কিংবা হতাশার ভেতর দিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো আক্রান্ত ব্যক্তির অনুভূতিকে অবমূল্যায়ন না করে বিচারহীনভাবে শোনা, তাকে আশ্বস্ত করা এবং সময়মতো পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’
আলোচনার এক পর্যায়ে জাতীয় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাউন্সেলর আঁখি। তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হলে পারিবারিক চাপ ও সামাজিক গ্লানি থেকে অনেকেই এমন চরম পথ বেছে নেয়। তবে পরিবারের মানসিক সমর্থন ও সহানুভূতি থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি আরও পরামর্শ দেন, সমাজ বা পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ, ভালো লাগা ও চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মনের ভেতরের যেকোনো চাপ বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব চেপে না রেখে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাওয়া প্ল্যাটফর্ম ‘মনের বন্ধু’র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
সঞ্চালক গিয়াস উদ্দিন তরুণদের মানসিক বিকাশ ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও নীরবতা দূর করা। ‘নিজে জানুন, বন্ধুকেও জানান মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব’—এই প্রতিপাদ্য কেবল কথায় নয়, আমাদের প্রাত্যহিক আচরণে ধারণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে প্রতিটি বন্ধুর পাশে মানবিক ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে জাবি বন্ধুসভাসহ অন্যান্য বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যাচ্ছে।
লাইভের কমেন্ট বক্সে দর্শকেরা এমন সময়োপযোগী ও জীবনঘনিষ্ঠ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নিয়মিত এমন অধিবেশন শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগাতে এবং বিষণ্নতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেন।