জান্নাত আক্তারের (৬) বাড়ি রাজশাহী আলোর পাঠশালার পাশে। বাড়িটি টিন দিয়ে ঘেরা, ভাঙাচোরা। সম্প্রতি ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার বন্ধুরা তার পরিবারের কাছে টোকেন পৌঁছে দিতে গিয়ে দেখেন, ছোট্ট জান্নাত আপন মনে খেলছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ঈদের জামা কিনেছ?’ তখন ছোট্ট জান্নাত উত্তর দেয়, ‘আমি যখন মাকে ঈদের জামা কিনে দেওয়ার কথা বলি, মা তখন মারে।’
আরেক শিশু রোহান (৭)। বাবা দিনমজুর, প্রতিদিন কাজ জোটে না। সংসারে অভাব লেগেই থাকে। রোহানের মা বলেন, ‘ছেলে কিছু বলে না, কিন্তু ঈদ সামনে এলেই চিন্তা বাড়তে থাকে। আমি তো মা, আমারও ইচ্ছা হয় ঈদের দিন বাচ্চা যাতে নতুন জামা পরতে পারে, ভালো খাবার খেতে পারে।’
‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জান্নাত ও রোহানের মতো এমন অসংখ্য শিশুকে নতুন জামা ও তাদের পরিবারকে ঈদের খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ৫ মার্চ বিকেলে রাজশাহী প্রথম আলোর আলোর পাঠশালার শ্রেণিকক্ষে এগুলো বিতরণ করা হয়।
এ সময় বন্ধুসভার উপদেষ্টা সারিকা তাসনিম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং ঈদকে আনন্দময় করে তোলা।’
উপদেষ্টা তুহিনুজ্জামান বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার কাছে অনন্য। শিশুদের মুখে হাসি এবং তাদের খুশি দেখলেই মন আনন্দে ভরে যায়। আর তাদের জন্য একটি স্মরণীয় ঈদ আয়োজন করাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায় বলেন, ‘ঈদ শুধুই উৎসব নয়, এটি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রতীক। অনেক শিশু রয়েছে, যারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের লক্ষ্য। ঈদ হোক সবার জন্য সমৃদ্ধ, খুশি ও ভালোবাসায় ভরা।’
সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, ঈদ হোক সবার জন্য আনন্দের। তাই আমরা অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যারা এই উদ্যোগকে সফল করতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের ছোট্ট প্রয়াস যদি শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, সেটাই বড় পুরস্কার।’
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আররাফি সিরাজী (অন্তর), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার, প্রচার সম্পাদক শামীম হোসেন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন, বইমেলা সম্পাদক ত্বা সীন জামান, বন্ধু তানভীর রহমান, মেহেদী হাসান ও মাসুম বিল্লাহ।