সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘তারানাথ তান্ত্রিক’

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: আরাফ

তারানাথ তান্ত্রিক বাংলা সাহিত্যে এক অতিপ্রাকৃত ও রহস্যময় দ্বার হিসেবে আবির্ভূত হন চল্লিশের দশকে। এই চরিত্রের যাত্রা শুরু হয় সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তিনি মাত্র দুটি গল্পে চরিত্রটিকে রূপায়িত করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্র তারাদাস বন্দোপাধ্যায় এই অসমাপ্ত ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান।

তারাদাস বন্দোপাধ্যায় ছিলেন বাঙালি ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার। তিনি ১৯৪৭ সালে ব্যারাকপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ‘কাল নিরবধি’, ‘সপ্তর্ষির আলো’, ‘কক্ষপথ’ উল্লেখ্যযোগ্য রচনা। তিনি ১৯১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

২৪ এপ্রিল বিকেলে তারাদাস বন্দোপাধ্যায় রচিত ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভাকক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাইরে অবিরাম ঝড়ছে বৃষ্টি, জীর্ণশীর্ণ বাড়ির তক্তপোশে বসে আছে এক বৃদ্ধ। হাতে ধরা সিগারেট আর সামনে রাখা মুড়িমাখা। আর সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ঘুরপাকেই জেগে উঠছে বৃদ্ধের অতীত জীবনের রোমাঞ্চময় তন্ত্রসাধনার গল্প। বৃদ্ধ তারানাথ তান্ত্রিক; অল্প বয়সেই ঘর ছাড়ে। ইচ্ছা ছিল সাধু হয়ে কাটাবে সারা জীবন। বাংলার পথেপ্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে থাকে সাধু সঙ্গের আশায়। সঙ্গে জড়ো হতে থাকে নানান সব অলৌকিক অভিজ্ঞতা। বীরভূমের মাতু পাগলিসহ বেশ কয়েকজনের সাধুসঙ্গ পেয়েছিলেনও। কিন্তু সন্যাসজীবন তার ভাগ্যে ছিল না। শেষ পর্যন্ত ফিরে গিয়েছিল সংসারজগতে। সঙ্গে জমা হয়েছিল তন্ত্রসাধনার বিচিত্র সব গল্প। বৃদ্ধ বয়সে অলৌকিক সব অভিজ্ঞতা শোনায় দুই বন্ধু কিশোরী ও লেখককে। তারাও গল্প শোনার লোভে সিগারেট নিয়ে হাজির হয় তারানাথের কাছে। তারানাথ সিগারেটের বাটে একটা লম্বা টান দিয়ে শুরু করে অতিপ্রাকৃত সব গল্প। গল্পগুলো ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মতোই, যা ধীরে ধীরে ভেসে উঠে আবার মিলিয়ে যায় অজানার অন্ধকারে।

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।

পাঠচক্র পর্যালোচনায় বন্ধু অম্লান রায় বলেন, গল্পগুলোতে দুটি ভিন্ন সময়কালের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রথমটি লেখকের ভাষায় চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে শহর কলকাতার টালমাটাল অবস্থা, আর দ্বিতীয়টি তারও আগে তারানাথ তান্ত্রিকের যুবক বয়সের স্মৃতিতে ধরা পড়া গ্রামবাংলার লোকবিশ্বাস আর সংস্কৃতি।

বন্ধু আরাফ বলেন, তারানাথ তান্ত্রিক চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
বন্ধু প্রণব চৌধুরী বলেন, চরিত্রটি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের সৃষ্টি হলেও তারাদাস বন্দোপাধ্যায় চরিত্রটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
বন্ধু শুভ তালুকদার বলেন, চরিত্রটি দুইটি সময়ের মধ্যে এক অদ্ভুত সেতুবন্ধন তৈরি করে।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, সুবর্ণা দেব, শ্রেয়ান ঘোষ, কৃত্য ছত্রী, প্রত্যাশা তালুকদার, শুভ তালুকদার, আহসানউল্লাহ খান, নয়ন হাজরাসহ অনেকে।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা