ভোরের আলো ফোটার আগেই যখন নিঝুম শহর ঘুমিয়ে থাকে, তখন তাঁদের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। ঢাকা থেকে আসা পত্রিকার বান্ডিল খোলা, পাতা মেলানো আর বাড়ি বাড়ি খবর পৌঁছে দেওয়ার ক্লান্তিহীন দৌড়—এই যাঁদের প্রতিদিনের জীবন, সেই সংবাদপত্রের ফেরিওয়ালাদের নিয়েই উদ্যাপন করা হলো উৎসবের এক অনন্য সকাল।
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে পত্রিকাটির হকার, এজেন্ট ও প্রতিনিধি নিয়ে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমী প্রীতিভোজের। ৬ নভেম্বর সকাল সাতটার দিকে শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ‘স্বর্ণ কুটির’ বিপণনকেন্দ্র প্রাঙ্গণে এই ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। হকার, এজেন্ট ও প্রতিনিধির মধ্যে এক আনন্দঘন আবহ ও প্রাণের মেলা বসে।
প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে এই বিপণনকেন্দ্রের সামনেই ঢাকা থেকে আসা সংবাদপত্র নামানো হয়। সেখান থেকে শহরের হকারদের হাতে পত্রিকা বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সালথা উপজেলা ও ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের পত্রিকা প্যাকেট করে বাসে পাঠানো হয়। প্রতিদিনের সেই চেনা আঙিনাই এদিন হয়ে উঠেছিল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনকে রূপ দিতে অন্যতম ভূমিকা রাখেন ফরিদপুর সংবাদপত্র হকার সমিতির সদস্যরা। সহযোগিতা করে ফরিদপুর বন্ধুসভা। প্রীতিভোজে খিচুড়ির পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় ডিম ভুনা, মুরগির মাংস ও কোমল পানীয়।
পত্রিকা বিক্রির দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি ও অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফরিদপুর সংবাদপত্র হকার সমিতির সভাপতি পান্নু খান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরই এই আয়োজন করা হয়। সারা বছর আমরা এই একটি দিনের দিকে পথ চেয়ে থাকি। এটি কেবল খাওয়ার অনুষ্ঠান নয়, আমাদের জন্য এক পরম ভালোবাসার মিলনমেলা।’
ফরিদপুরের সংবাদপত্র এজেন্ট নারায়ণ দাস বলেন, ‘এ দিনটি বরাবরই আমাদের কাছে ব্যতিক্রম ও স্পেশাল। আমরা যারা পত্রিকা ছাপা হওয়া থেকে শুরু করে একদম পাঠকদের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দময় এক আয়োজন।’
একই অনুভূতি প্রকাশ করে এজেন্ট মাহমুদুল হাসানের ব্যবস্থাপক কার্তিক রায় বলেন, ‘সাতসকালে এমন প্রীতিময় আয়োজন আমাদের সারা বছর কাজ করার নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়। এবারও এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমরা নিজেদের গর্বিত ও সম্মানিত মনে করছি।’
প্রথম আলো ফরিদপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রবীর কান্তি বালা বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি কিংবা কড়া রোদ—কোনো কিছুই যাঁদের দমিয়ে রাখতে পারে না, সেই হকার ভাইরাই আমাদের সংবাদের আসল বাহক। পাঠক আর পত্রিকার মাঝখানে তাঁরা যে সেতুবন্ধ তৈরি করেন, তার তুলনা হয় না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখ আর ভালোবাসা ভাগ করে নিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
প্রবীর কান্তি বালা জানান, ফরিদপুরে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর নভেম্বরে প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়ে থাকে। আজ পর্যন্ত এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর এজেন্ট, প্রতিনিধি, বন্ধুসভা এবং ফরিদপুর সংবাদপত্র হকার সমিতির ৩৫ জন উপস্থিত ছিলেন। আড্ডা, প্রীতিভোজ আর পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সকাল সাড়ে আটটার দিকে শেষ হয়।
সভাপতি, ফরিদপুর বন্ধুসভা