‘ছোটবেলা থেকে লিখতাম। আমরা সবাই লিখি। বাংলাদেশের কোনো বালক ফুটবল খেলে নাই, আর কবিতা লিখে নাই—এটা হতেই পারে না। পরিবারে আমি সবার ছোট। আমার ভাইবোন সবাই ক্লাসে প্রথম ছিল। ছোট হওয়ায় এ কারণে সব সময় পড়াশোনার একটা চাপ থাকত। আমি এই চাপ নিতে পারতাম না। তখন দেখলাম যে আমার নিজেকে প্রকাশ করার, ভাইবোনদের পাশে আমার নামটা রাখার একটা উপায় হচ্ছে, আমি যেহেতু ছবি আঁকি, কবিতা লিখি—এগুলোই আমি করি। তো আমি রংপুর জিলা স্কুলে গিয়েই হাতে লেখা পত্রিকা বের করে ফেললাম। সেই পত্রিকা নিয়ে স্যারদের হইচই, সব ক্লাসে ক্লাসে নিয়ে দেখাল। দেয়ালপত্রিকা বের করলাম। এটা স্যারের রুমে রেখে দেওয়া হলো। এভাবেই লেখালেখি চর্চা চলতে থাকে।
‘পরে যখন বুয়েটে আসলাম, তখন বুঝে গেলাম যে আমি ভুল জায়গায় এসে গেছি। এটা আমার জায়গা–ই না। আমার জায়গা সাহিত্য। প্রথম বর্ষেই সিদ্ধান্ত নিলাম, বুয়েট থেকে পড়ে আমি পাস করব। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং করব না। আমি কবি হব, লেখক হব। আর লেখা প্রকাশের সুবিধার্থে আমি সংবাদপত্রে জয়েন করব।’
অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ লাইভ ‘বন্ধুর বই’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় মৌসুমের নবম পর্বে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে নিজের লেখক হয়ে ওঠার শুরুর গল্প এভাবেই শেয়ার করেন কবি, লেখক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। বিশ্বখ্যাত মুঠোফোন ব্র্যান্ড অনারের সৌজন্যে ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত এই পর্বের সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের বইমেলা ও ম্যাগাজিন সম্পাদক সৌমেন্দ্র গোস্বামী।
প্রথমবার বইমেলায় আসা ও বই প্রকাশের স্মৃতিচারণা করে আনিসুল হক বলেন, ‘বুয়েটে ভর্তি হলাম ৮৩–৮৪ সেশনে। সে সময় প্রথমবার বইমেলায় আসা। তখন বাংলা একাডেমির ভেতরে পুকুরের চারপাশে বইমেলা হতো। তখন আমারও মনে হলো— একদিন এখানে আমার বই বের হবে। বুয়েটে থাকা অবস্থাতেই আমি কবিতার বই বের করতে শুরু করলাম। ‘তুই কি আমার দুঃখ হবি’ কবিতাটি বুয়েটে প্রথম বর্ষে থাকাকালীন লেখা। আর চতুর্থ বর্ষে গিয়ে প্রথম কবিতার বই বের হলো। বুয়েটের সব ছেলেমেয়েরা বই কিনে নিয়ে গেল। এ কারণে বইটার দ্বিতীয় সংস্করণ করতে হয়।’
‘ঢাকায় তখন আবৃত্তির খুব চর্চা ছিল। আবৃত্তিকাররা আমার বইয়ের কবিতা আবৃত্তি করতে শুরু করলেন। এভাবেই অতি অল্প বয়সে মোটামুটি পরিচিত হয়ে গেলাম,’ যোগ করেন আনিসুল হক।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এ মেলা চলবে। একই দিনে শুরু হয় অনারের সৌজন্যে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ লাইভ ‘বন্ধুর বই’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় মৌসুম।
বন্ধুসভার যে বন্ধুর বই প্রকাশিত হয়েছে, হচ্ছে বা হবে, তাঁদের বই সম্পর্কে আলোচনা ও প্রচারণার লক্ষ্যে বন্ধুসভার ফেসবুক পেজ থেকে মেলা চলাকালে প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট বন্ধুকে নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান হচ্ছে। এ ছাড়া বন্ধুসভার ওয়েবসাইটে মাসব্যাপী প্রতিটি বইয়ের রিভিউ ও সংবাদ প্রকাশ করা হবে।
বন্ধুদের লেখালেখি ও বই প্রকাশকে উৎসাহিত করার জন্যই বন্ধুসভার এ আয়োজন। তাই অনতিবিলম্বে সারা দেশের যে বন্ধুদের বই প্রকাশিত হয়েছে বা হচ্ছে, তার তথ্য পাঠানোর পাশাপাশি বই নিয়ে সংবাদ বা পর্যালোচনা আহ্বান করা হচ্ছে।
সংবাদ বা পর্যালোচনা পাঠান: [email protected]
বইয়ের সব তথ্য দিয়ে লিংকে ক্লিক করে গুগল ফরমটিও পূরণ করুন।