দিনাজপুরের ইতিহাসকে মুড়িয়ে গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এ বছরের দ্বিতীয় পাঠচক্র। পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধ আলোয় ঐতিহাসিক দিনাজপুর রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু। সামনে কালের সাক্ষী প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, আর তার ছায়ায় বসে একদল তরুণ আহরণ করেন নিজেদের শিকড়ের ইতিহাস।
রাজবাড়ির রাজপ্রাসাদের ধ্বংসস্তূপকে সাক্ষী রেখে দিনাজপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা পাঠ করেন ড. মুহম্মদ মনিরুজ্জামানের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘দিনাজপুরের ইতিহাস’। এই বই জেলার গৌরবময় ও অভূতপূর্ব অতীতকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বইটিতে মোট তিনটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ আধুনিক দিনাজপুর (১৭৬৫-১৯৪৭), দ্বিতীয় অংশ প্রাচীন থানাসমূহের বিবরণ এবং তৃতীয় অংশে রয়েছে দিনাজপুরের শিক্ষা। পরিশিষ্ট অংশে রয়েছে দিনাজপুর জেলাসম্পর্কিত প্রাচীন প্রবন্ধের বর্ণনা। এ ছাড়া বইটিতে উঠে এসেছে দিনাজপুরের গৌরবময় অতীত। জনপদের ভূতাত্ত্বিক গঠন, প্রাচীন রাজবংশ, তেভাগা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, যা এক প্রামাণ্য দলিল স্বরূপ।
নিজ জেলাকে জানতে হলে এই বই পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। রাজবাড়ির মতো ঐতিহাসিক স্থানে বসে এমন একটি বই নিয়ে আলোচনা পাঠচক্রের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বন্ধু আসিফ শ্রাবণ।
পাঠচক্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বন্ধুসভার বন্ধু তাহসিন আহমেদ। তিনি দিনাজপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের উদ্দেশে বিভিন্ন উপদেশমূলক কথা বলেন এবং দিনাজপুরের মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন নেওয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আল আবিক উৎস, বন্ধু বেলালুর রহমান, পৌষী ইসলাম, আয়ান শ্রেয়াস, প্রাপ্তি পায়েল, সুম্মা বিথি, আফরিন আহমেদ, মো. শামীমসহ অন্যরা।
সাধারণ সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা