খুলনা বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘জোছনা ও জননীর গল্প’
হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য জাদুকর। যিনি উপন্যাস, গল্প, নাটক ও সিনেমা—সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতায় পাঠক ও দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। ৪ এপ্রিল বিকেলে তাঁর রচিত উপন্যাস ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে খুলনা বন্ধুসভা। প্রথম আলো খুলনা অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষের সঞ্চালনায় পাঠচক্রে সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত গাইন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসে দেশপ্রেম ও মুক্তির আন্দোলনের কথা তুলে ধরেছেন। উপন্যাসের প্রথমে ইজরাত উদ্দীন কাশিমপুরী, যিনি তাঁর ভাইকে খুঁজতে ঢাকা শহরে আসেন। তাঁর ভাইকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে কাহিনি। ভাইয়ের নাম শাহেদ এবং তাঁর স্ত্রী আসমানী বেগম ও তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তান রুনি। শাহেদ ও আসমানীর মধ্যে খুনসুটি প্রেমের সম্পর্ক দেখিয়েছেন লেখক। ১৯৭১–এর মুক্তিযুদ্ধে তাঁকে হারিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের পর খুঁজে পান। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ–তিতীক্ষার ফলে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সঞ্চালক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ মুক্তিযুদ্ধের এক বাস্তব ও মানবিক দলিল। যা পাঠকের মনে দেশপ্রেম ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাধারণ মানুষের জীবন, ভয়, ভালোবাসা, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের অত্যন্ত আবেগঘন স্মৃতি ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে।
সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যূথি বলেন, ‘উপন্যাসটি কোনো ইতিহাস নয়; বরং মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক এবং দেশপ্রেমের গভীর চিত্র তুলে ধরে।’
সহসভাপতি দিপু রায় বলেন, ‘বন্ধুদের পাঠচক্রের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা করতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।’
পাঠচক্রের সেরা আলোচক হয়েছেন বন্ধু জয়ন্ত গাইন ও সৌরভ ঘোষ। তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন মিয়া, অর্থসম্পাদক অনির্বাণ সরকার, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক দ্বীপ মণ্ডলসহ আরও অনেকে।