আদালতের কৃত্রিম নিয়মের হাস্যরসাত্মক উপস্থাপন ‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’

নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠের আসর
ছবি: বন্ধুসভা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক, বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে যিনি তাঁর অসীম অবদানের জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। ২৬ জুন ছিল এই লেখকের জন্মবার্ষিকী।

এই মহান লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে পাঠচক্রের আসর করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ২৮ জুন প্রথম আলোর নোয়াখালী অফিসে অনুষ্ঠিত পাঠের আসরের বিষয় ছিল ‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’ প্রবন্ধ।

পরিচয়পর্বের পর শুরু হয় মূল আলোচনা। বন্ধুরা একে একে প্রবন্ধটি পড়েন এবং আলোচনা করেন। প্রচার সম্পাদক সানি তামজিদ বলেন, প্রসন্ন গোয়ালিনীর গরু চুরি মামলার সাক্ষী কমলা আাফিংয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে আদালতে উদ্ভট কথা বলা শুরু করে। উকিলের প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে ইনিয়ে–বিনিয়ে উত্তর দেয়, যাতে আদালতের সময় দীর্ঘ হয়। বিচারক ও উকিল—দুজনই তার ওপর চটে যান। তার প্রায় সব উত্তরই ছিল হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গধর্মী।

সাধারণ সম্পাদক উম্মে ফারহিন বলেন, প্রবন্ধে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাক্ষী কমলাকান্তের জবানবন্দির মাধ্যমে হাস্যরসাত্মকভাবে কিছু বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে কমলার উদ্ভট আচরণের মধ্যেও আদালতের সাজানো–গোছানো কারবারের কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাজকির হোসেন, বইমেলা সম্পাদক গোলাম শাহরিয়ার, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আজিজুল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাহিদা ইতু, দপ্তর সম্পাদক ধ্রুব ভূঁইয়া, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক আরাফাত শিহাব, বন্ধু ফারিন আক্তার, আল জাবেরসহ আরও অনেকে।