কক্সবাজার শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয় সমিতিপাড়া, অথচ টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে কয়েক দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল এলাকার শতাধিক পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুলায় আগুন জ্বলেনি, রান্না হয়নি, তবু তাঁদের খোঁজ নিতে কেউ আসেননি।
এই নীরব দুর্ভোগের মধ্যেই গতকাল বুধবার বন্যাকবলিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কক্সবাজার বন্ধুসভা। প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় ২৬০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন বন্ধুসভার স্বেচ্ছাসেবকেরা। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, সেমাই, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, টোস্ট বিস্কুট, চিড়া, লবণসহ প্রায় এক হাজার টাকা মূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
উপহার নিতে আসা ৭৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বলেন, ‘শহরের এত কাছে থেকেও কয়েক দিন পানিবন্দী ছিলাম। কেউ খোঁজ নেয়নি। দুই-তিন দিন রান্না করতে পারিনি। প্রথম আলোর এই সহযোগিতা আমাদের অনেক উপকার করেছে।’
হাঁটুপানিতে ঘেরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গৃহিণী খোরশিদা আক্তার বলেন, ‘খবর রাখার কথা ছিল সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের, কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। প্রথম আলো ও বন্ধুসভা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
এ সময় কক্সবাজার বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল নবী বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘবের চেষ্টা করছি।’
বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবিক সংকটে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক উলফাতুল মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারগুব মোর্শেদ, অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, প্রচার সম্পাদক ইশরাফ উদ্দিন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আয়েশা ছিদ্দিকা, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক নাদিয়া আকতার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুজিবুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আল আমিন, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মুবিনুল ইসলাম, বন্ধু নাছির উদ্দিন ও আরিফুল কবির।
সভাপতি, কক্সবাজার বন্ধুসভা