গত ২৭ আগস্ট ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণদিবস। এ উপলক্ষে ২৮ আগস্ট বিকেলে সিলেট বন্ধুসভা আয়োজন করে এক বিশেষ পাঠচক্র। আলোচনা করা হয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছোটগল্প ‘শিউলি–মালা’।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩১ সালে ৩২ বছর বয়সে ‘শিউলি–মালা’ প্রকাশ করেন। এটি তাঁর ‘শিউলি–মালা’ গল্পগ্রন্থের শেষ এবং নামরচনা। এই গল্পে নজরুলের বিদ্রোহী রূপের আড়ালে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল, রোমান্টিক ও বিরহী রূপটি ফুটে ওঠে। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা একটি রোমান্টিক ও ট্র্যাজিক ছোটগল্প।
গল্পের প্রধান চরিত্র মিস্টার আজহার, কলকাতার একজন সফল ও নামকরা তরুণ ব্যারিস্টার। দাবা খেলার প্রতি তার প্রবল আকর্ষণ ছিল। ব্যারিস্টারি পাস করে শিলং বেড়াতে গেলে এই দাবা খেলাকে কেন্দ্র করেই প্রফেসর চৌধুরী এবং তার মেয়ে শিউলির সঙ্গে আজহারের পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে একটি সুপ্ত ও অব্যক্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা তারা কেউ মুখে প্রকাশ করতে পারেনি। জীবনের বাস্তবতায় আজহার শিউলিকে স্থায়ীভাবে আপন করে নিতে না পারলেও মধুর বেদনা হিসেবে হৃদয়ের গহিনে তাকে চিরকালের মতো গেঁথে রাখে। আজহার ও শিউলির সেই না-পাওয়াই তাদের ভালোবাসাকে এক অমর ও শাশ্বত রূপ দিয়েছে।
লেখক গল্পে শরতের প্রকৃতি এবং মানবমনের সূক্ষ্ম অনুভূতির সমন্বয়ে চমৎকার ও সাবলীল ভাষায় একটি নীরব, কোমল এবং অপূর্ণ প্রেম ফুটিয়ে তোলেন। গল্পটি যেন এক পবিত্র ও নীরব বিরহগাথা। নজরুলের ১৯২৮ সালের দার্জিলিং সফরের প্রেক্ষাপটে রচিত এই গল্পে আজহারের অপ্রাপ্তি যেন নজরুলের নিজের জীবনের একাকিত্বকেই ফুটিয়ে তোলে।
বন্ধু পারমিতা রায় বলেন, ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই গল্পে তাঁর বিদ্রোহী সত্তার বাইরে গিয়ে অপ্রাপ্তি ও বিরহের সুরকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
নামকরণের স্বার্থকতায় বন্ধু সুমন দাস বলেন, ‘শিউলি ফুল যেমন কোমল ও স্বল্পস্থায়ী, গল্পের নায়িকা শিউলির জীবনও তেমন স্বল্পস্থায়ী, কোমল ও ট্র্যাজেডিতে পূর্ণ। তাই “শিউলি–মালা” নামকরণটি সার্থক ও শিল্পমণ্ডিত হয়েছে।’
বন্ধু অলখ সরকার বলেন, ‘গল্পে কাজী নজরুল ইসলাম খুব কম লেখার মধ্যেই প্রতিটি চরিত্রকে তাদের নিজস্বতায় সুগঠিত করেছেন। নিজের বিদ্রোহী সত্তার বাইরে গিয়ে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং অপ্রাপ্তি ও বিরহের সুরকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, সমরজিৎ হালদার, গায়ত্রী বর্মন, আজিজুল হাকিম, সৌম্য মণ্ডল, অমিত দেবনাথ, প্রাণেশ দাস, শুভ তালুকদার, য়ূম্নাম লৈরিক, বৃষ্টি দে, রক্তিমসহ অনেকে।