শীতের মৃদু ছোঁয়া আর পাহাড়ঘেঁষা সবুজ অরণ্যের স্নিগ্ধতায় বন্ধুত্বের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় পটিয়া বন্ধুসভার হিমেল উৎসব ২০২৬। উপজেলার শ্রীমাই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ফরেস্ট বিট অফিস–সংলগ্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর স্থানে গত ৩১ জানুয়ারি দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
কমল মুন্সির হাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে পাহাড়ি পথে সকাল থেকেই পটিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্ধুরা একে একে এসে জড়ো হতে থাকেন। সবুজ পাহাড়, অরণ্যের নীরবতা আর শীতল হাওয়ার মিতালি যেন এই মিলনমেলাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
উৎসবের আগের দিন থেকেই আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অন্য বন্ধুরা বাজার করা, সাউন্ড বক্স, ব্যানার, খাবারের উপকরণ, ইভেন্টের পুরস্কারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রথম আলো প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক এবং বন্ধু আবদুল জব্বারের সহযোগিতায় পাহাড়ে আগে থেকেই রান্নার জন্য লাকড়ি, ডেকচি, বাসন-কোসন, গ্লাস, জগ, কলসি ও অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে যায়।
সকাল ১০টার মধ্যে সবাই উপস্থিত হলে প্রথমেই দূরবর্তী ছড়া থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। মেয়ে বন্ধুরা একসঙ্গে তরকারি কাটা, চাল ধোয়া ও অন্যান্য কাজে সহযোগিতা করেন। সভাপতি আইরিন সুলতানার নেতৃত্বে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি।
অ্যালামনাই এরশাদ হোসেনের সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রথম পর্বের পরিচিতি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। এরশাদ হোসেন বন্ধুসভা নিয়ে আবেগঘন অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। আবদুর রাজ্জাক বন্ধুদের নিরাপত্তা ও সার্বিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বক্তব্য দেন। সাংস্কৃতিক পর্বে মিশকাত, আবু নয়ন, হিরাসহ অনেকে গান পরিবেশন এবং প্রান্ত বড়ুয়া কবিতা আবৃত্তি করেন।
সাধারণ সম্পাদক মোকারেম রিজু ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ ২০২৫–এর স্মৃতিচারণা ও তারুণ্যবিষয়ক পাঠচক্র পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে সবুজ সমারোহে চুলা বসিয়ে রান্নার ব্যস্ততা চলতে থাকে—ভাত, পাঁচমিশালি সবজি, ডিম ভুনা, পালংশাকের বড়া, মুরগি মাংস, সালাদ ও শাক ভাজির আয়োজন। নাদিয়া, তানাস, সুফি রেজাসহ সবাই রান্নার আমেজে মেতে ওঠেন। প্রিয় মিসেস রাজ্জাকের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও আন্তরিক করে তোলে।
দ্বিতীয় পর্বে বেলা দুইটায় খাবার পরিবেশন করা হয়। পাহাড়ের ঢালে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সবাই প্লেট হাতে খাবার গ্রহণ করেন। ভাত পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন জুয়েল ও তানাস। গাছতলায় বসে শীতল হাওয়ার সঙ্গে খাবারের স্বাদে হিমেল উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
খাওয়া শেষে তৃতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের ও ছেলেদের আলাদা পিলো পাস প্রতিযোগিতা। মেয়েদের খেলায় কণ্ঠ মেলান সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ এবং ছেলেদের খেলায় কণ্ঠ মেলান সভাপতি আইরিন সুলতানা। উপদেষ্টা আবদুর রাজ্জাক, এরশাদ হোসেন ও ফারুক আহমেদ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এ ছাড়া জাতীয় বন্ধু সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ৯ জন বন্ধুকে বন্ধু সমাবেশ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞানপত্র ও তারুণ্য প্রদান করা হয়। আনন্দ, বন্ধুত্ব আর স্মৃতির আবেশে দিনটি হয়ে ওঠে সবার জন্য বিশেষ এক অধ্যায়। শেষে সবাই মিলে ফটোসেশনের মাধ্যমে এই সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে বন্দী করেন।
আনন্দঘন এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. শাহ আলম, আবদুল জব্বার, মো. তারেক, আনিসা তহুরা, পার্থ প্রতীম দাশ, শচীব দে, জুনাইদ হোসাইন, আবু নয়ন, মিশকাত, তানাস চৌধুরী, মেহেরুন্নেছা মনি, জান্নাতুল ফেরদৌস, জারিয়া, মো. ইসমাইল, আবদুল মুহি, হুমাইরা জান্নাত, সানজিদা খানম, কাঞ্চি আকতার, নুর হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, মো. সোলাইমান, নাইমা আকতার, খায়রুন্নেছা, নাদিয়া ইউসুফসহ প্রায় ৫০ জন বন্ধু।
সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা