শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চুয়াচন্দন’ শুধু একটি গল্প নয়, এটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রাক্কালে অন্ধকারাচ্ছন্ন নবদ্বীপের সামাজিক অস্থিরতা এবং সেই পটভূমিতে জন্ম নেওয়া এক নিষিদ্ধ প্রেমের করুণ, অথচ রোমাঞ্চকর দলিল। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই সময়ের অন্ধকার দিক, মানুষের বিকৃত রুচি ও নৈতিক অধঃপতনকে চিত্রিত করেছেন।
৫ নভেম্বর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চুয়াচন্দন’ গল্পটি নিয়ে পাঠচক্র করেছে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার ভবনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বন্ধু মো. আলামিনের সঞ্চালনায় গল্পটি নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে রূপবতী ষোড়শী চুয়া, যে ছিল একপ্রকার পণ্যের মতো। সে ছিল বামাচারী পুরুষ মাধবের কড়া পাহারায় বন্দিনী। মাধব তাকে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছিল এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। চুয়া ছিল অসহায়ত্বের প্রতিমূর্তি, তার জীবনে আলো বলতে কিছু ছিল না। গল্পের নায়ক চন্দনদাস ছিলেন একজন শক্তিশালী, সুদর্শন ও দুঃসাহসী বণিক। তিনি তার সওদাগরি মধুকর ডিঙা নিয়ে গঙ্গার ঘাটে এসে ভিড়তেই এই করুণ কাহিনির সাক্ষী হন। চন্দনদাস ছিলেন সেই সময়ের সাধারণ ভীরু মানুষের বিপরীতে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ইয়ারমিন আক্তার বলেন, গল্পের মোড় ঘোরে যখন বণিক চন্দনদাস ঘাটে প্রথম চুয়াকে দেখেন। চুয়ার অসহায় সৌন্দর্য এবং তার প্রতি মাধবের অমানবিক অত্যাচার চন্দনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রথম দর্শনেই চন্দনের মনে তার প্রতি গভীর আকর্ষণ ও সহানুভূতি জন্ম নেয়। চুয়াকে মাধবের কবল থেকে মুক্ত করার চেষ্টা নিয়েই গল্পের মূল কাহিনি আবর্তিত হয়।
পাঠচক্রের আসরে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু শাফিনুর ইসলাম, ইয়ারমিন আক্তার, সাবিনা আক্তার, মো. আলামিন, মোস্তাকিম বিল্লাহ, তৌহিদুল ইসলাম, দুর্জয়সহ অন্য বন্ধুরা।