শাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’
শওকত ওসমানের উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’ নিয়ে পাঠচক্র করে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। ১১ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টারের ১০২ নম্বর রুমে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণ সম্পাদক নুর হাসনাতের সঞ্চালনায় বন্ধু জোনাকি আক্তার বইটির কাহিনি ও মূল বার্তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কোনো এক রাতের অন্ধকারে মশরুরের সঙ্গে ক্রীতদাস পল্লি অতিক্রম করার সময় খলিফা হারুনর রশীদ ‘তাতারী ও মেহেরজান’ গোলাম দম্পতির প্রাণখোলা হাসি শুনতে পান, যাঁদের তাঁর স্ত্রী জুবায়দা বিয়ে দেন গোপনে। হাসি শুনে খলিফা মেহেরজানকে নিজের কাছে রেখে দেন এবং তাতারীকে মহল, রাজকীয় পোশাক, খাবার ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দান করে বিনিময়ে তার প্রাণখোলা হাসি শুনতে চান। কিন্তু তাতারী হাসেন না স্ত্রীর বিরহে। একসময় তাতারী হারুনর রশীদকে বলেন, ‘দিরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস–গোলাম কেনা চলে। বন্দী কেনা সম্ভব! কিন্তু, কিন্তু, ক্রীতদাসের হাসি—না–না–না–না।’
খলিফা বুঝতে পারেন যে স্বাধীনতার চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। একমাত্র স্বাধীনতাই পারে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। মূলত নাটকের ভঙ্গিমায় রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমে রূপকার্থে কবি তৎকালীন আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং জনগণকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।