নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী উপন্যাস। এটিতে মধ্যবিত্ত জীবনের হাসি–কান্না, স্বপ্নভঙ্গ, ভালোবাসা, অভিমান ও পারিবারিক টানাপোড়েন গভীর মানবিক আবেগে ফুটে উঠেছে। অত্যন্ত সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় লেখক মানুষের অন্তর্গত নিঃসঙ্গতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জীবনের নির্মম বাস্তবতাকে শিল্পরূপ দিয়েছেন। জীবন্ত চরিত্রচিত্রণ ও আবেগঘন উপস্থাপনার কারণে উপন্যাসটি আজও পাঠকের হৃদয়ে সমানভাবে আলোড়ন তোলে।
৯ মে বিকেলে ‘কোথাও কেউ নেই’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র করে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। শুরুতে বন্ধুরা নিজ নিজ পরিচয় দেন। এরপর উপন্যাসের বিষয়বস্তু, প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান সময়ের সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ খালিদ হাসান বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে অসাধারণভাবে তুলে ধরা। “কোথাও কেউ নেই” শুধু একটি উপন্যাস নয়, এটি আমাদের সমাজ ও সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি।’
জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তারাবি তাবাসসুম বলেন, ‘এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো এতটাই বাস্তব যে পাঠক খুব সহজেই নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পান। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানুষের নিঃসঙ্গতার বিষয়টি লেখক অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন।’
বন্ধু রুপা চন্দ্র বলেন, ‘“কোথাও কেউ নেই” আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকে অজানা কষ্ট ও গভীর অনুভূতি। হুমায়ূন আহমেদ এই উপন্যাসে দেখিয়েছেন কীভাবে একজন নিরপরাধ মানুষ সমাজের জটিলতা ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে নিঃসঙ্গভাবে বিদায় নেয় আর চারপাশের চেনা পৃথিবীটা আচমকা শূন্য হয়ে যায়। তাই উপন্যাসটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কার্যনির্বাহী সদস্য ওয়াসিম সাদমানসহ অন্য বন্ধুরা।