পালাগানের সংকলনগ্রন্থ ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নিয়ে পাঠচক্র

ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

প্রাচীন ও লোকপ্রচলিত বাংলা পালাগানের বিখ্যাত সংকলনগ্রন্থ ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নিয়ে পাঠচক্র করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। সম্প্রতি প্রথম আলো ময়মনসিংহ অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘মৈমনসিংহ গীতিকা’-এর সম্পাদক দীনেশচন্দ্র সেন এবং সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে। ১৯১৩-১৯৩২ সালের মধ্যে দীনেশচন্দ্র সেন চার খণ্ডের একটি পূর্ববঙ্গ–গীতিকা সম্পাদনা করেন। সেটিরই প্রথম খণ্ড ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’, যা তখনকার সময়ে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপের অধীনে ছিল।

মৈমনসিংহ গীতিকাতে মোট ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। মহুয়া, মলুয়া (এই পালাটির সূচনাতে কবি চন্দ্রাবতীর একটি বন্দনা রয়েছে বলে এর রচয়িতা হিসেবে চন্দ্রাবতীকে মনে করা হয়), চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা, দেওয়ানা মদিনা। এগুলো সাহিত্যর অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

গীতিকাগুলোয় উল্লেখিত রয়েছে প্রাচীন বাংলার লোককাহিনি ও প্রেমকাহিনি। প্রেমের পরিণতি কোনোটির মিলনাত্মক, কোনোটির বিয়োগান্তক। নায়িকার নামানুসারে গীতিকাগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। গীতিকাগুলোয় পুরুষ চরিত্রের তুলনায় নারী চরিত্রের ভূমিকা উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

সাবেক সভাপতি মো. আবুল বাশার বলেন, ‘“মৈমনসিংহ গীতিকা”–তে মূলত বাংলার মানুষের জীবন ও বিশেষ করে প্রেম-বিরহের করুণ কাহিনি গীতিকবিতার আকারে তুলে ধরা হয়েছে, যা এপার বাংলা-ওপার বাংলাতে সাহিত্যের রত্নভান্ডার হিসেবে অভিহিত হয়েছে।’

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা