বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানলে কেউ বিতর্ক করার সুযোগ পাবে না
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। গাছের যেমন শিকড় থাকে, আমাদের স্বাধীনতারও তেমনি গভীর শিকড় রয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানই আমাদের একাত্তরের পথে নিয়ে গেছে। সঠিক ইতিহাস জানলে এই অর্জন নিয়ে কেউ বিতর্ক করার সুযোগ পাবে না।’
চট্টগ্রামে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাংবাদিক ও লেখক আবুল মোমেন। ২৮ মার্চ পূর্ব নাসিরাবাদ এ জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা।
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং সত্য ইতিহাসচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী চলছে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে এটির আয়োজন করছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।
সকাল সাড়ে ৯টায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। ২০ মিনিটের এই মেধা যাচাই পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হলেও চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বাছাইকৃত প্রতিযোগীরা।
পরীক্ষা শেষে বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় এবং চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা শিহাব জিশানের সভাপতিত্বে শুরু হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ও আলোচনা পর্ব। শুরুতেই চট্টগ্রাম বন্ধুসভার গানের দল ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ ও ‘জাগরণী গান’ পরিবেশন করে পুরো মিলনায়তনে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেয়। অদ্বিতীয়া মল্লিকের একক নৃত্য আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘একটি মানচিত্র, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা অর্জনে আমাদের অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতা নিয়ে এখনো নানা বিভ্রান্তি ও বিকৃতি ছড়ানোর চেষ্টা চলে। এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জেনে সব ধরনের বিভ্রান্তি রুখে দিতে পারবে।’
সাংস্কৃতিক পর্ব চলাকালে অনুভূতি প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। একজন প্রতিযোগী বলে, ‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য নিয়ে চমৎকার সব প্রশ্ন ছিল, তবে ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর আরও বেশি জোর দিলে আমাদের জানার পরিধি আরও বাড়ত।’ অভিভাবকেরা এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা শিহাব জিশান। উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে ৬ জনকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দেবরাজ মজুমদার, দ্বিতীয় ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনজামুল করিম, তৃতীয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের আরেফিন আফরোজ, চতুর্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সাকিব জিশান ও পঞ্চম হয়েছে সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অর্গ্যজিৎ বড়ুয়া। বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের আইরিন আকতার।
পুরো আয়োজনটির সমন্বয়ে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান, সহসভাপতি ইব্রাহিম তানভীর, নুরুজ্জামান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী এবং বইমেলা সম্পাদক সামিয়া সুলতানাসহ অন্য বন্ধুরা।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা