ক্যাম্পাস থেকে করপোরেট: জাবি বন্ধুসভার ‘লার্নিং ল্যাব ৪.০’

জাবি বন্ধুসভার ‘লার্নিং ল্যাব ৪.০’।

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যারিয়ার প্রস্তুতিমূলক ‘লার্নিং ল্যাব ৪.০’ আয়োজন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ‘লার্ন টুডে, লিড টুমরো’ প্রতিপাদ্যে ২৪, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী এই মেগা সেশন পরিচালিত হয়।

ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত এই সেশনে দেশের প্রথম সারির তিনটি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা প্রশিক্ষণ দেন। এতে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শেষে করপোরেট অঙ্গনে পদার্পণের সুনির্দিষ্ট পথনকশা, আধুনিক চাকরির বাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবারের চতুর্থ সংস্করণ।

কর্মশালার প্রথম দিন ২৪ অক্টোবর ‘ফ্রম ক্যাম্পাস টু করপোরেট: ইয়োর এমএনসি ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ শিরোনামে সেশন নেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের টেরিটরি ম্যানেজার নাজমুস সাকিব। তিনি বহুজাতিক কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি, এমএনসি ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামের সুযোগ এবং টেরিটরি ম্যানেজমেন্টের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ দিকনির্দেশনা দেন।

দ্বিতীয় দিন ২৬ অক্টোবর ‘গেট হায়ারড: সিভি বিল্ডিং অ্যান্ড লিঙ্কডইন ফর ক্যারিয়ার গ্রোথ’ সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের এইচআর বিজনেস পার্টনার তাসনিয়া কবির প্রোমা। তিনি নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টি কাড়ার মতো কার্যকর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) প্রণয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সিভিতে উপস্থাপনের কৌশল এবং প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য শক্তিশালী লিঙ্কডইন প্রোফাইল তৈরির খুঁটিনাটি তুলে ধরেন।

সমাপনী দিন ২৭ অক্টোবর ‘ওয়ার্ক স্মার্টার: এআই, এক্সেল অ্যান্ড ডিজিটাল টুলস ফর ক্যারিয়ার সাকসেস’ সেশন পরিচালনা করেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের এইচআর স্পেশালিস্ট নাজিম মোহাম্মদ। তিনি মাইক্রোসফট এক্সেলের আধুনিক প্রয়োগ, ফ্রি প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন, এক্সেল কম্পিটিশন এবং করপোরেট কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে জেনারেটিভ এআই ও আধুনিক ডিজিটাল টুলের ব্যবহারের ওপর বাস্তবিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

আয়োজনের আহ্বায়ক ও জাবি বন্ধুসভার প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাইমা ইসলাম জানান, ৩টি লাইভ সেশন শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষা (অ্যাসেসমেন্ট) গ্রহণ করা হচ্ছে। সফলভাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বন্ধুসভার পক্ষ থেকে সনদ প্রদান করা হবে।

জাবি বন্ধুসভার সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান আয়োজনের সার্বিক সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘কেবল পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলাই বন্ধুসভার লক্ষ্য। প্রথম আলোর শুভ জন্মলগ্নে আমাদের এই ভালো কাজটি ক্যাম্পাসের তরুণদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিন দিনব্যাপী এই তিন শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। আগামী দিনগুলোয়ও তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও মানবিক মূল্যবোধ শাণিত করতে এমন বৃহৎ পরিসরের কর্মমুখী উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

প্রচার সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা