সৈয়দ শামসুল হকের ‘হে বৃদ্ধ সময়’ নিয়ে পাঠচক্র

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

কবি, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘হে বৃদ্ধ সময়’ নিয়ে পাঠচক্র করেছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্ধুসভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় হিরন্ময় কথকতা সিরিজ পাঠচক্রের ৩৫তম পর্বটি।

আলোচক হিসেবে ছিলেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান। তিনি বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের ‘হে বৃদ্ধ সময়’ মূলত তাঁর শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিকথা। ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্ব এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতার আগের সময়ের স্মৃতি এখানে উঠে এসেছে।

বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কুড়িগ্রাম। সেখানকার মানুষ, মফস্‌সল জীবন, পারিবারিক পরিবেশ ও ধরলা নদী লেখকের শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘বাদশা’। বইটি পড়ার মাধ্যমে আমরা সেই কৌতূহলী শিশুটিকেই দেখতে পাই।

নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার কাছে বইটির বিশেষত্ব হলো, এখানে ইতিহাস বড় কোনো ঘটনার তালিকা হয়ে আসেনি। মন্বন্তর, যুদ্ধ কিংবা সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতা এসেছে একজন মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। আর এই পৃথিবীর সঙ্গে ধরলা নদীর সম্পর্ক আরও গভীর। ধরলা এখানে শুধু একটি নদী নয়, লেখকের শৈশবের স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীকে আমরা সাধারণত ভৌগোলিক বিষয় হিসেবে দেখি। কিন্তু একজন শিশুর কাছে নদী মানে শুধু জলধারা নয়; নদী মানে তার চারপাশের প্রকৃতি, মানুষের চলাচল, ঋতুর পরিবর্তন, বিস্তৃতির অনুভূতি এবং অজানার প্রতি একধরনের টান।

বইটির অসমাপ্তিও গুরুত্বপূর্ণ। লেখক যেন আরও কিছু লিখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ২০১৬ সালে তাঁর মৃত্যুর কারণে সেই স্মৃতিচারণা আর সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনি। ‘হে বৃদ্ধ সময়’ শুধু সৈয়দ শামসুল হকের শৈশবের গল্প নয়। এটি আমাদের নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সময়ের কথাও মনে করিয়ে দেয়। বাস্তবে আমরা অতীতে ফিরে যেতে পারি না, কিন্তু সাহিত্য সেই সময়ের স্মৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।

কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফ উল হক বলেন, “‘হে বৃদ্ধ সময়” পড়তে গিয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর স্মৃতিময় আবহ। সৈয়দ শামসুল হক তাঁর শৈশব, কুড়িগ্রাম আর ধরলা নদীকে যেভাবে মনে করেছেন, তা পড়তে গিয়ে মনে হয় আমরাও যেন তাঁর সঙ্গে সেই সময়টায় ফিরে যাচ্ছি। বইটি পড়ার পর নিজের শৈশবের কথাও মনে পড়ে। আমার কাছে বইটি শুধু একজন লেখকের স্মৃতিকথা নয়, হারিয়ে যাওয়া সময়কে আরেকবার অনুভব করার একটি সুযোগ।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক ফয়সাল হাওলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ আর আছাদ, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, বইমেলা সম্পাদক সামিয়া সুলতানা, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তৃষা বড়ুয়া, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক ইনজামাম ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য তাজরিয়া রশিদসহ অন্যান্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা