নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠচক্রে বিভূতিভূষণের ‘মেঘমল্লার’
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘মেঘমল্লার’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ১৭ এপ্রিল রাত ১০টায় অনলাইন গুগল মিট অ্যাপে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক শান্ত চন্দ্র দে।
‘মেঘমল্লার’ ছোটগল্পটিতে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, সংগীত আর মানুষের আবেগের এক সুন্দর মিশ্রণ। গল্পের মূল চরিত্র সংগীতসাধক প্রদ্যুম্ন। সে মেঘমল্লার সুরে বাঁশি বাজাতে পারে। তার বাঁশির সুর এতই প্রখর যে মেঘমল্লার রাগে বাঁশি চঞ্চল হয়ে ওঠে। এই রাগের সুমিষ্ট ধ্বনি যেভাবে সে তার প্রিয়া সুনন্দার মনে প্রেমের দোলা লাগায়, তেমনি তান্ত্রিক বিদ্যার প্রভাবে বাঁশির টানেই মর্ত্যে নেমে আসেন দেবী সরস্বতী। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তান্ত্রিক গুনাঢ্য দেবীকে বন্দী করে এবং পরবর্তী সময়ে প্রদ্যুম্নের আত্মবলিদানেই দেবীর মুক্তি হয়।
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ বলেন, গল্পটিতে লেখক প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে গ্রামীণ সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির সুন্দর রূপ তুলে ধরেছেন। প্রদ্যুম্ন ও সুনন্দার মিলহীন প্রেমকাহিনিও পাঠকের জন্য আকর্ষণীয়।
এ ছাড়া পাঠচক্রে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস নিয়েও আলোচনা করা হয়। উঠে আসে বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘আরণ্যক’সহ আরও অনেক লেখার কথা। সভাপতি আসিফ আহমেদ বলেন, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা গল্পগুলোতে প্রকৃতির ঘটনাগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, বিভূতিভূষণের গল্পের চরিত্রগুলো খুবই সহজ–সরল হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক নাফিস আহমেদ, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক জয়শ্রী নাথ, কার্যনির্বাহী সদস্য অর্ঘ্য ভূঁইয়া, বন্ধু ফাতেকুর রহমানসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা