‘বই পড়া মানুষের মধ্যে অভ্যাসে পরিণত হওয়া দরকার’

বশেমুরবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

ড. আমিনুল ইসলাম রচিত ‘আত্মহত্যার মৃত্যুদণ্ড’ উপন্যাসটি আমাদের সমাজের সমসাময়িক প্রতিচ্ছবি। বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে বর্তমান সমাজ ও সমাজকাঠামো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ৪ এপ্রিল বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা।

উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র ইভান ও ফুয়াদ। একজন পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আরেকজন এরই মধ্যে বিসিএস দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে গিয়েছে। দুজনের সাক্ষাৎ হয় একটি অসফল আত্মহত্যার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। সেই আত্মহত্যার কারণ জানতে গিয়ে উপন্যাসের অন্য চরিত্র সামনে আসে। যেখানে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরি, সামাজিক মূল্যবোধ, রাজনীতি, প্রেম-ভালোবাসা কিংবা পারিবারিক সম্পর্কগুলোও সামনে চলে এসেছে। সমাজের সাধারণ মানুষের না-বলা গল্পগুলো উঠে এসেছে এ উপন্যাসের মাধ্যমে।

‘আত্মহত্যার মৃত্যুদণ্ড’ উপন্যাসটি নিয়ে মূল আলোচনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ। সভাপতি আলাউল হক বলেন, আলো যেমন জাগতিক নিয়মে অন্ধকার দূর করে সবকিছু মূর্ত করে দেয়, তেমনি বই মানুষের মনের ভেতরে জ্ঞানের আলো এনে যাবতীয় অন্ধকারকে দূর করে চেতনার আলোয় সবকিছুকে উদ্ভাসিত করে। আত্মহত্যা জীবনের সবচেয়ে বড় কাপুরুষতার পরিচয়। তাই আত্মহত্যা কখনোই কোনো সমাধান হতে পারে না। সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক রাতুল হাসান বলেন, বই পড়া মানুষের মধ্যে অভ্যাসে পরিণত হওয়া দরকার। এ জন্য নিয়মিত পাঠচক্র আয়োজন করতে হবে।
বইমেলা সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে আশার আলো একবার ডুবে গেলেই যে আত্মহত্যা করতে হবে, এমন কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, সূর্য কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর ঠিকই আলো দেয়। তাই আমাদের জীবনে চলার পথে বাধা আসবেই, সেই বাধা দৃঢ়তার সঙ্গে অতিক্রম করতে হবে। এ জন্যই ব্যর্থতার ছাপ লাঘব করার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই।’

পাঠচক্রের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি সিনথিয়া সুমি, অনিক কুমার সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান হোসেন, প্রচার সম্পাদক শামীম আহামেদ, জেন্ডার-সমতাবিষয়ক সম্পাদক হোসনেআরা খাতুন, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মুহাম্মদ সোহেলসহ অন্য বন্ধুরা।

প্রচার সম্পাদক, বশেমুরবিপ্রবি বন্ধুসভা