বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ট্রাজেডি ‘দেবদাস’। উপন্যাসটি লিখেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ২৫ জুন বিকেলে বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। প্রথম আলো নোয়াখালী অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতি আসিফ আহমেদের সঞ্চালনায় পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র ও পটভূমি নিয়ে আলোচনা করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘দেবদাস’ মূলত একটি কালজয়ী ট্র্যাজেডি বা ব্যর্থ প্রেমের কাহিনি। এতে তৎকালীন সমাজের শ্রেণিভেদ, অন্ধ সংস্কার এবং মানুষের মানসিক দ্বন্দ্ব ও আত্মহননের করুণ কাহিনি ফুটে উঠেছে।
জমিদার পরিবারের সন্তান দেবদাস এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে পার্বতী (পারু) ছোটবেলার বন্ধু ও প্রতিবেশী। এই বন্ধুত্ব পরবর্তী সময়ে গভীর প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু দুই পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের বিস্তর পার্থক্য থাকায় তাদের বিয়ে ভেঙে যায়।
পরিবার ও সমাজের চাপে পারুর বিয়ে দেওয়া হয় এক বয়স্ক ও ধনী জমিদারের সঙ্গে। এই শোকে ও হতাশায় দেবদাস নিজ গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পালিয়ে যান। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্পের পটভূমি।
‘দেবদাস’ শুধু একটি জনপ্রিয় উপন্যাস নয়। ২০০২ সালে ভারতীয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত হিন্দি ভাষায় নির্মিত ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রসহ প্রায় ৭টি ভাষায় এই উপন্যাস নিয়ে অন্তত ২০টির বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক শান্ত চন্দ্র দে বলেন, দেবদাস, পার্বতী (পারু) ও চন্দ্রমুখীর জীবনের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে ভালোবাসাও একসময় অপূর্ণতার প্রতীকে পরিণত হয়। শত বছর পেরিয়েও ‘দেবদাস’ পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায় তার গভীর আবেগ, বাস্তবতা এবং মানবিক অনুভূতির জন্য।
অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “দেবদাস” উপন্যাস শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়। এটি সমাজের আত্মঅহংকার, ভুল সিদ্ধান্ত এবং হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার এক হৃদয়স্পর্শী কাহিনি।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক জুনাইন কাউসার, বন্ধু পিয়ারুল আহমেদসহ অন্যরা।
সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা