সিলেট বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে ‘সূর্য তুমি সাথী’
আহমেদ ছফা রচিত ‘সূর্য তুমি সাথী’ উপন্যাস নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। ৪ আগস্ট এটি অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৬৭ সালে মাত্র ২১-২২ বছর বয়সে আহমেদ ছফা রচনা করেন তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘সূর্য তুমি সাথী’। এটি কেবল একজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা একটি ঘটনাকেন্দ্রিক নয়; বরং উপন্যাসটি খুব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশকে পাঠকের কাছে তুলে ধরেছে।
পটভূমি চট্টগ্রামের এক প্রত্যন্ত গ্রাম। কেন্দ্রীয় চরিত্র হাসিম সেই গ্রামের এক ক্ষুদ্র মানুষ। অতীতের কিছু ঘটনাপ্রবাহের কারণে হাসিমকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হতে হয়। তার মনে প্রশ্ন জাগে, কেন সব মানুষ সমান নয়? এখানে মূলত হাসিমকে শোষিত শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে রূপায়িত করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামের মাতবর, পরিষদের চেয়ারম্যান শোষক শ্রেণির প্রতীক। উপন্যাসটিতে গ্রামের সাম্প্রদায়িকতা-অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের বিভেদ ইত্যাদি বিষয়গুলোকেও খুবই সাধারণ কিছু চরিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বন্ধু মিনথিয়া রহমান বলেন, ‘একটি সাধারণ গ্রাম, সাধারণ কিছু চরিত্র কিন্তু; এর মাধ্যমেই লেখক সাম্প্রদায়িকতা ও শোষক শ্রেণির প্রভাব-প্রতিপত্তির বিষয়গুলোকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
বন্ধু শুভ তালুকদার বলেন, ‘লেখক নিজের মতাদর্শকেই গ্রামীণ চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
বন্ধু অলখ সরকার বলেন, সব বিভেদের কৃত্রিম দেয়াল ভেঙে মানুষের মৌলিক পরিচয় যে ‘মানুষ’—এই তত্ত্বই উপন্যাসের মূল চালিকা শক্তি।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফয়সাল আহমেদ, গায়ত্রী বর্মণ, সমরজিত হালদার, অনুপমা দাস, শাহরিয়ার আবির, সৌম্য মন্ডল, আহসানউল্লাহ খান, শুভ তালুকদার, প্রাণেশ দাস, আজিজ বিন আহম্মদ, নয়ন হাজরাসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা