পাঠচক্রের প্রতি উৎসাহ জাগানো এবং এটি আমাদের বাস্তব জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে খুলনা বন্ধুসভা। ৩ আগস্ট খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে আলোচনা করা হয় কল্লোল লাহিড়ী রচিত উপন্যাস ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’।
‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ কলকাতার এক সাধারণ পাইস হোটেল হলেও এর প্রতিটি রান্নাতে মিশে আছে খুলনার কলাপোতা গ্রামের কিশোরী ইন্দুবালার অতীত ও কলকাতার ইন্দুবালার বর্তমান জীবনসংগ্রাম।
ভোজনরসিক বাঙালির কাছে হোটেলের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস বরাবরই আগ্রহের বিষয়। এ বিষয়ে প্রকাশিত গুটিকয় রচনার মধ্যে ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ অন্যতম। এই উপন্যাসে মোট আটটি অধ্যায় আছে। প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে আটটি পদের খাবারের নামে। যেমন ‘কুমড়ো ফুলের বড়া’, ‘বিউলির ডাল’ ইত্যাদি। প্রতিটি নামে মিশে আছে বাঙালি হেঁশেলের গন্ধ আর ইন্দুবালার অতীতের সংগ্রাম।
পাঠ পর্যালোচনায় বন্ধু সুদীপ্ত রায় বলেন, ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ আমাদের শেখায় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আবার নতুন করে জীবন শুরু করা যায়।’
বন্ধু আল কাফি মৃদুল বলেন, ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটির অন্যতম প্রেক্ষাপট দেশভাগের ক্ষত। পূর্ববঙ্গের খুলনার মাটি থেকে অল্প বয়সে কূল-কিনারা না পেয়ে কলকাতায় চলে আসা ইন্দুবালার জীবন যেন ভূরাজনীতির নির্মম শিকার। নিজের ছেনু মিত্তির লেনের অন্ধকার ঘরে ভাতের হোটেল খুলে তিনি যে আত্মনির্ভরতার পথ বেছে নিয়েছেন, তা এক লড়াকু নারীর প্রতীক। শর্ষে ইলিশ, কুমড়ো ফুলের বড়া কিংবা আচার—প্রতিটি পদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওপার বাংলার গন্ধ, মা-ঠাকুমার হাতের ছোঁয়া এবং হারানো শৈশব।
অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থী রমা রায় বলে, ‘বাস্তব জীবনের জ্ঞানগুলো জানার জন্য আমরা গল্প–উপন্যাস পড়ি। মনে সৃজনশীলতা এবং জানার পরিসর বাড়ানোর জন্য আমাদের বই পড়া উচিত।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি স্বর্ণকমল রায় বলেন, ‘বইয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হলেই কেবল তুমি বইকে নিজের করে তুলতে পারবে। অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে সিলেবাসের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’
পাঠচক্র শেষে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য স্কুলের পাঠাগারে প্রথম আলো বন্ধুসভার পক্ষ থেকে কিছু বই উপহার দেওয়া হয়।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি, সহসভাপতি হাফিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ, অর্থ সম্পাদক অনির্বাণ সরকার, দপ্তর সম্পাদক আল রাইসা, বন্ধু সুদীপ্ত রায়সহ অন্য সদস্যরা।
সাধারণ সম্পাদক, খুলনা বন্ধুসভা