আমি চোখ মেললুম আকাশে,
জ্বলে উঠল আলো
পুবে-পশ্চিমে।
গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম ‘সুন্দর’
সুন্দর হলো সে।
এই পঙ্ক্তিগুলো রচনার পর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিশ্চয়ই বাংলা সাহিত্যের দিকে তাকিয়েছিলেন, যার ফলে বাংলা সাহিত্য হয়েছে সমৃদ্ধ। ৮ মে ছিল কবিগুরুর ১৬২তম জন্মবার্ষিকী।
এ উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাস নিয়ে বছরের ১০ম পাঠচক্র করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। এদিন বিকেলে জেলা শহীদ মিনারসংলগ্ন মুক্তমঞ্চে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি অসমাপ্ত প্রেমের উপন্যাস, যাকে লেখকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসও বলা হয়। প্রেম পরিণতি পাবে বন্ধনে, একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ হবে—এমনটাই হয়ে আসছে। তবে এ উপন্যাসে প্রেম নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। যেখানে বন্ধন থাকবে না, থাকবে অসম্ভব স্বাধীনতা। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের নবশিক্ষিত রুচিশীল সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে।
শুরুতে বইটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফরিনা ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক আসিফ আহমেদ ও পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক তাজকির হোসেন বইটি নিয়ে আলোচনা করেন। একে একে অন্য বন্ধুরাও তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বইমেলা সম্পাদক আশরাফুল মতিন বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সুখ-দুঃখের সাথি।’
কবিগুরুর জন্মদিন বলে কথা! শুধু পাঠচক্রে কি মন ভরে? দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মো. শিমুল আবৃত্তি করেন কবির ‘নির্ঝরের গান’ কবিতাটি। স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক প্রণয় মজুমদার ও বন্ধু ফাতেমা ভূঁইয়া একে একে কবিগুরু রচিত বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। অন্য বন্ধুরাও গানের তালে তাঁদের সঙ্গে মেতে ওঠেন।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি রাখি মজুমদার। দীর্ঘদিন পর বন্ধুসভায় এসে তিনি তাঁর সময়ের কিছু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুরা আরও বেশি উদ্যমী হচ্ছে। বন্ধুদের মাঝে একতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে; তাঁরা প্রাণ খুলে কাজ করতে পারছে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন, কার্যকরী সদস্য ধ্রুব ভূঁইয়া, বন্ধু জয় দেবসহ অন্য বন্ধুরা।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা