সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও জটিল প্রেমের উপন্যাস ‘দিবারাত্রির কাব্য’। বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে জামালপুর বন্ধুসভা। ২৪ জানুয়ারি বিকেলে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ মুক্তমঞ্চের পাশে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শুরুতে প্রচার সম্পাদক ফাহিম মোনায়েম উপন্যাসটির চরিত্রের সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তাঁর আলোচনা থেকে জানতে পারি, উপন্যাসটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগ ‘দিনের কবিতা’, যেখানে সুপ্রিয়ার একপক্ষীয় প্রেমের বিষাদ ও যন্ত্রণাকে বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগ ‘রাতের কবিতা’, এই অংশে আনন্দ ও হেরম্বের প্রেম ও ভালোবাসার স্নিগ্ধতা প্রকাশ পায়। তৃতীয় ভাগ ‘দিবারাত্রির কাব্য’, যেখানে সম্মিলিত উপন্যাসের প্রতিফল ও এর ফলাফলকে বোঝানো হয়েছে।
বন্ধু সাদিয়া নুরের সামগ্রিক আলোচনা থেকে জানতে পারি, উপন্যাসের প্রথম ভাগে দেখা মেলে সুপ্রিয়ার; যিনি ভালোবাসত হেরম্বকে এবং আজও ভালোবাসে। হেরম্বের অনুরোধেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল সে। বিয়ে হয় এক পুলিশ অফিসারের সঙ্গে। বিয়ের দীর্ঘ ছয় বছর পর সুপ্রিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যায় হেরম্ব। একসময় সুপ্রিয়ার অবাধ প্রেমের ইশারায় সায় না দিয়ে ছয় মাসের সময় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে সে।
উপন্যাসের দ্বিতীয় ভাগে, মনো–জটিলতার আরেকটি রূপ দেখতে পাই। দীর্ঘ সময় পর পথিমধ্যে অনাথ বাবুর সঙ্গে দেখা হয় হেরম্বের। অনাথ বাবুর বাড়িতে যায় সে। সেখানেই আনন্দের সঙ্গে দেখা হয় তার এবং আনন্দ ও হেরম্বের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন হয়। হেরম্বকে তখন দেখা যায় অনেকটাই দ্বিধাগ্রস্ত। হেরম্ব যেন কাউকেই অস্বীকার করতে পারে না। এক মানসিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়। একদিকে সুপ্রিয়ার আকুলতা, অন্যদিকে আনন্দের আবেদন। এভাবেই উপন্যাসটির শেষ পর্যায়ে আনন্দ অতীতে তার মা-বাবার ভালোবাসার পূর্ণতা ও পরিণতি অনুধাবন করতে পেরে আত্মহননের মতো করুণ পরিণতি বরণ করে নেয়।
সবশেষে সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম এই উপন্যাসের ফ্রয়েডীয় মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আইডি, ইগো ও সুপারইগো বিশ্লেষণ করেন। কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আইডি হচ্ছে অবচেতন স্তরে কাজ করে এবং আনন্দের নীতি মেনে চলে, যা আমরা উপন্যাসের সুপ্রিয়ার চরিত্রের মধ্যে দেখতে পাই। ইগো, যা বাস্তবতার নীতি মেনে চলে। বাস্তবতার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে, যা উপন্যাসের সুপ্রিয়ার চরিত্রে ফুটে উঠেছে। সুপারইগো হলো মানুষের নৈতিকতা ও আদর্শের কেন্দ্র। সুপারইগো সামাজিক নিয়ম, মূল্যবোধ ও আদর্শকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা আমরা হেরম্বের মধ্যে দেখতে পাই।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাসান, সহসভাপতি আরিফ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক চৌধুরী সামিত তাবাসসুম, দপ্তর সম্পাদক জিনেদিন জিদান, বইমেলা সম্পাদক আমির হামজা, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক নাহিদুল হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাসেল মিয়া, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক বিজয় হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল জান্নাত, জুবাইর আহমেদ, বন্ধু রতন আহমেদ, আব্দুস সিয়াম, মোহাম্মদ হৃদয়, সুমাইয়া মাহমুদ, বাকী বিল্লাহ, নাঈমুল শাকিল, আশিকুল কোভিদ, শাহরিয়ার নাহিদসহ অন্য বন্ধুরা।
প্রচার সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা