পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য, সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধকে ধারণ করে দিনাজপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে সৌহার্দ্যপূর্ণ ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহরের হোটেল কনকর্ডের ছাদে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক সদস্য, উপদেষ্টা, আমন্ত্রিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা রমজান মাসের শিক্ষা সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন কেবল একসঙ্গে ইফতার গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করা, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহ্জাহান সাজু বলেন, ‘বন্ধুসভার এমন আয়োজন সব সময়ই আনন্দের। রমজান মাসে ইফতার ও সহমর্মিতার ঈদ উদ্যোগ বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক।’
উপদেষ্টা ডা. ডিসি রায় বলেন, ‘বন্ধুসভার ধারাবাহিক ইফতার ও সহমর্মিতার আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। আমি বরাবরই এ আয়োজনে থাকি। সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হয় এবং তরুণদের সমাজমুখী ও মানবিক কাজে উৎসাহিত করে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক উপস্থিত থেকে আয়োজনকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করেন। জাফর সাদিক বলেন, সারা দেশে বন্ধুসভার বন্ধুরা ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সম্প্রীতির যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
জাফর সাদিক বলেন, কেবল মুসলিমদের ইফতার আয়োজন নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষেও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ বন্ধুসভা গ্রহণ করে থাকে, তা সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
দিনাজপুর বন্ধুসভার কর্মতৎপরতা, অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে জাফর সাদিক এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দিনাজপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিকূল সময়েও ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বন্ধুসভার কার্যক্রম সে পথকে আরও সুদৃঢ় করছে।
প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি শৈশব রাজু বলেন, ‘প্রতিবছর রমজানের শেষ দিকে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছোটদের রঙিন কাপড় এবং পরিবারকে উপহার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। যা বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হয়।’
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক শুভ রায় বলেন, ‘সহমর্মিতার ঈদ বন্ধুসভার অন্যতম ধারাবাহিক মানবিক আয়োজন। যা তরুণদের সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ এবং ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদের গর্বিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ বন্ধুদের এই কাজের উৎসাহকে বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিবার সেরা ১০টি বন্ধুসভাকে পুরস্কৃত করে। আশা করি, দিনাজপুর বন্ধুসভা বরাবরের মতোই এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাবে।’
আজানের ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতারি গ্রহণ করেন। খেজুর, ফল, ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার ও পানীয়তে পরিপূর্ণ ছিল আয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তি সংগঠন রক্তকরবীর সভাপতি সুবর্ণা মুখার্জি, সাংবাদিক ভবতোষ রায়, বন্ধুসভার সহসভাপতি দীপুরাম রায়, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন সিংহ, জাহিন নেওয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব সরকার, দপ্তর সম্পাদক আল আবিক উৎস, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক ঈশান কর্মকার, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেব রায়, কার্যনির্বাহী সদস্য সুদর্শন চন্দ্র অধিকারী, প্রাপ্তি পায়েল, বন্ধু জুঁই, মোলি রায়, বেলালুর রহমান, সাব্বির, শ্রাবণ, ইনজামাম, স্পর্শ প্রমুখ।
প্রশিক্ষণ সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা