‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিখো–প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬। ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় রংপুর শিশুনিকেতন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
সংবর্ধনা ঘিরে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, ক্রেস্ট ও উপহার গ্রহণ এবং ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আনন্দের পাশাপাশি উঠে আসে তাদের সাফল্যের পেছনের পরিশ্রম, ত্যাগ ও নানা প্রতিকূলতার গল্প।
কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোয়াদ ও মো. জুনাইদ জিপিএ-৫ পেয়েছে। দুই বন্ধুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে তারা। জুনাইদ জানায়, জিপিএ–৫ পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তার আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগও পেয়েছে সে।
অন্যদিকে সোয়াদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিজের পরিশ্রমের গল্প। অনেক বন্ধুর মতো প্রাইভেট ও কোচিংয়ের সুযোগ না পেলেও নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। সোয়াদ বলে, ‘কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রাপ্য হিসেবে আজ সংবর্ধনায় এসেছি। খুব ভালো লাগছে।’
তারাগঞ্জের ছুট লক্ষ্মীপুর থেকে বাবা কেরামত আলীর ইজিবাইকে অনুষ্ঠানে আসে নাদিয়া আফরিন। অভাব–অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে জিপিএ–৫ অর্জন করেছে সে। নাদিয়া জানায়, অনেক দিন না খেয়ে স্কুলে যেতে হয়েছে তাকে। ধারদেনা করে বাবা পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করেছেন। ভালো ফলের আনন্দ থাকলেও কলেজে পড়াশোনার খরচ নিয়ে এখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন রংপুর বন্ধুসভার বন্ধু শাহরিয়ার আহম্মেদ ও আদিবা ইবনাত। এ ছাড়া সভাপতি সোহেলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহসভাপতি মামুন হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হৃত্বিক রায়সহ অন্য বন্ধুরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান সফল করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন উপস্থিত সব বন্ধু।
সাধারণ সম্পাদক, রংপুর বন্ধুসভা