মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে এডাস্ট বন্ধুসভা। ১৬ জানুয়ারি অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসের চরিত্র, নদীনির্ভর মানুষের জীবনসংগ্রাম, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক দ্বন্দ্ব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেন। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নৈতিক ও মানবিক জটিলতা বোঝার সুযোগ পান।
উপন্যাসটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রচার সম্পাদক সানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ নদী, মানুষ ও জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার এক অনন্য দলিল। উপন্যাসে পদ্মা নদী শুধু একটি ভৌগোলিক উপাদান নয়; এটি মানুষের জীবন, নিয়তি ও সংগ্রামের প্রতীক। নদী যেমন জীবন দেয়, তেমনি সবকিছু কেড়ে নেয়—এই দ্বৈত রূপেই নদী এখানে উপস্থাপিত।
সমাজ বাস্তবতা, মানবিক টানাপোড়েন ও জীবনসংগ্রামের গভীর চিত্রায়নের কারণে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য ও চিরকালীন মূল্যবান সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত। নদীর তীরবর্তী জেলেসমাজের সুখ–দুঃখ, আশা–নিরাশা ও অস্তিত্বের লড়াই এই উপন্যাসে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কুবের একজন দরিদ্র মাঝি। নদীই তার জীবিকা, আবার সেই নদীই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। দারিদ্র্যপীড়িত সংসার, স্ত্রী মালতির সঙ্গে দাম্পত্য টানাপোড়েন এবং কপিলার প্রতি অব্যক্ত আকর্ষণ কুবেরের জীবনে সৃষ্টি করে গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব। এসব দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে লেখক মানবমনের দুর্বলতা ও বাস্তব জীবনের কঠোর সত্য তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে হোসেন মিয়া নামের এক প্রভাবশালী চরিত্র নতুন চরের স্বপ্ন দেখিয়ে জেলেসমাজকে আকৃষ্ট করে। তার প্রলোভনে লুকিয়ে থাকে শোষণ ও নিয়ন্ত্রণের সূক্ষ্ম রূপ, যা সমাজের শ্রেণি বৈষম্য ও ক্ষমতার রাজনীতিকে স্পষ্ট করে তোলে। কুবেরের নতুন চরের পথে যাত্রা আসলে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীকী অগ্রযাত্রা।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা অংকন তঞ্চঙ্গ্যা, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল সানিসহ অন্য বন্ধুরা।